অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে হাতকড়া পরিয়ে মো. সুজন (২০) নামে এক রাজমিস্ত্রিরা অপহরণের ঘটনায় পুলিশের কনস্টেবলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ অপহরণের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল, হাতকড়া ও লাঠি জব্দ করেছে।

পুলিশ সুজনকে উদ্ধার এবং কনস্টেবল লিয়াকত হোসেন লিমনসহ (২৫) চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে। লিমন জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কু-েরবাজার ট্রাফিক পুলিশে কর্মরত রয়েছেন। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন শ্রীনগর উপজেলার উত্তর কামারগাঁও গ্রামের ফয়সাল খান (২৩), দামলা গ্রামের আরিফ হোসেন (২০) ও মুজিবুর রহমান শাফিন (২৪)। অপহৃত সুজন উপজেলার ব্রাহ্মণ পাইকসা গ্রামের মৃত মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শ্রীনগর উপজেলার ফুলকুচি গ্রামের হৃদয় মার্কেটের সামনে থেকে পুলিশ পরিচয়ে সুজনকে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যায় ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল। সুজনের কাছে মাদকদ্রব্য রয়েছে অভিযোগ তুলে তাকে হাতকড়া পরায় তারা। পরে তাকে উপজেলার ছনবাড়ি এলাকার বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়ের ফ্লাইওভারের নিচে এনে বাড়ি থেকে মুক্তিপণ এনে দিতে বলে। এ সময় তারা সুজনকে বেদম মারধর করে।

রাত ৯টার দিকে অপহরণকারীরা সুজনের মায়ের কাছে ফোন দিয়ে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সুজনের মা আনোয়ারা বেগম বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশের পরামর্শে আনোয়ারা বেগম টাকা নেওয়ার জন্য অপহরণকারীদের সমষপুর এলাকায় তাদের বাড়ির সামনে আসতে বলেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাকা নিতে একটি মোটরসাইকেলে করে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণ পাইকসা মসজিদের সামনে এলে শ্রীনগর থানার-পুলিশ অপহরণ চক্রের ফয়সাল, আরিফ ও শাফিনকে আটক করে।

এরপর পুলিশ তাদের নিয়ে ছনবাড়ি এলাকায় আসে। এ সময় লিয়াকত হোসেন লিমনসহ তিন জন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সুজনের হাতকড়া খুলে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে, শ্রীনগর থানা-পুলিশের একটি দল গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকার দোহার উপজেলার নিকরা গ্রামের একটি  বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কনস্টেবল লিয়াকত হোসেন লিমনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিপি লেখা হ্যান্ডকাপ, স্প্রিংয়ের লাঠি ও অপহরণের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

শ্রীনগর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল তায়েবীর জানান, এ ঘটনায় শনিবার ছয় জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা রুজু করা হয়েছে। চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।