ওলেনা জেলেনস্কা

আমার ছেলে তার বাবাকে মিস করে

ছোটবেলা থেকেই একে অপরকে চিনতেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদমির জেলেনস্কির ও তার স্ত্রী ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনেস্কা। ক্রিভি রিহ শহরে একসঙ্গেই বড় হয়েছেন ভোলোদিমির ও ওলেনা।

স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বন্ধুত্ব ছিল তাঁদের। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় প্রেম হয় দুই বন্ধুর। আট বছর সম্পর্কের পর ২০০৩ সালে ওলেনার সঙ্গে বিয়ে হয় জেলেনস্কির। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সুখের সংসার তাদের।

কিন্তু গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকেই বদলে যেতে থাকে সব। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি ওলেনা জেলেনস্কা জানিয়েছেন যে কীভাবে এই যুদ্ধ তার পরিবারের উপর মানসিক প্রভাব ফেলেছে।

মঙ্গলবার এই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে বিবিসি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল, তখন ওলেনা জেলেনস্কা তার সন্তানদের সাথে গোপন স্থানে লুকিয়ে কয়েক মাস কাটিয়েছিলেন বলে জানান।

আক্রমণের শুরুতে তার মানসিক অবস্থাকে খুব খারাপ হিসাবে বর্ণনা করেন। কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে তিনি বুঝতে পারেন যে যে নিজেকে শান্ত করা এবং বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মানিয়ে চলাটা প্রয়োজনীয় ছিল।

ওলেনা জেলেনস্কা বিবিসিকে জানান, "আমরা আমার স্বামীর সাথে একসাথে থাকি না, পরিবার আলাদা। আমাদের একে অপরকে দেখার সুযোগ থাকলেও চাইলেই দেখা করতে পারি না।“

যুদ্ধের পর থেকে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারছেন না ভলোদিমির জেলেনস্কি। বিভিন্ন দেশ সফরের পাশাপাশি নানা কাজে জেলেনস্কির পরিবারে সময় দিতে না পারার কথা সাক্ষাৎকারে জানান ফার্স্ট লেডি।

তিনি আরও জানান, “আমার ছেলে তার বাবাকে মিস করে।"

এই যুদ্ধ এবং জীবনযাপনের অনিশ্চয়তা তার সন্তানদের জন্য একটি মানসিক চাপ তৈরি করেছে বলে জানান তিনি।

ওলেনা আরও বলেন, "এটা দেখে আমার কষ্ট হয় যে আমার বাচ্চারা কিছু পরিকল্পনা করে না। আমার মেয়ের বয়স ১৯। তাদের ভ্রমণের কোন সুযোগ নেই। আমরা সীমাবদ্ধতার মাঝে বসবাস করি।”

ইউক্রেনের এই ফার্স্ট লেডি জানান তিনি তার স্বামীকে "ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব" হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। তিনি আরও জানান, "এটি কিছুটা স্বার্থপর মনে হতে পারে, তবে আমার পাশে আমার স্বামী দরকার, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব নয়।‘

তবে এই যুদ্ধে ইউক্রেন বিজয়ী হবে এমন আশা প্রকাশ করে ওলেনা জানান, "আমরা শক্তিশালী রয়েছি, আমাদের মানসিক এবং শারীরিকভাবে শক্তি আছে। আমি নিশ্চিত যে আমরা একসাথে এটি পরিচালনা করব।"

একবিংশ শতাব্দীতে এসে ইউরোপে দেশে এমন একটি যুদ্ধের কল্পনা করেননি ইউক্রেনের ফার্স্ট লেডি। যুদ্ধে জয় নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল কি হবে তা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে না ইউক্রেনীয়রা। আমাদের জয়ের অনেক আশা আছে, কিন্তু কখন আসবে তা আমরা জানি না।‘