তাদের অন্যরকম পুনর্মিলনী

গত বিপিএলে রংপুর রাইডার্সের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছেই হচ্ছিল না হারিস রউফের। টিম হোটেল ছাড়ার সময়ও সতীর্থদের ভালোবাসা দিয়েছেন এবং নিয়েছেন অকপটে। পাকিস্তানের হয়ে ম্যাচ খেলে পরদিনই ঢাকা চলে আসেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। কুমিল্লার হয়ে ম্যাচ খেলতে হেলিকপ্টারে চড়ে আসেন চট্টগ্রাম। এত ভ্রমণের ক্লান্তিও লিটন দাসদের হয়ে ভালো করতে তার বাধা হয়নি। পিএসএলের জন্য আগে চলে গেলেও শুধু ফাইনালের জন্য নাসিম শাহকে আবার ফেরাতে চেয়েছিল কুমিল্লা। এদিকে সাকিব আল হাসানের নিজের পছন্দের ইফতিখার আহমেদ তার দল বরিশালের হয়ে জ¦লেছেন হাজার পাওয়ারে। দুজনে মিলেই ফরচুন বরিশালকে টেনেছেন বিপিএলে। ব্যাটিংয়ে তাদের বোঝাপড়া ছিল দারুণ। এই ভালোবাসা আজ আবার দেখা যাবে, তবে তা শুধুই মাঠের বাইরে। মাঠের ভেতরের নিবেদন থাকবে ভিন্ন। বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলের ক্রিকেটারদের আজ তাই অন্য রকম পুনর্মিলনী হতে যাচ্ছে। যেখানে মুখে হাসি থাকলেও ব্যাটে-বলে থাকবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ।

বিপিএল, পিএসএল এবং আরও দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কাছাকাছি সময়ে হয়ে পড়ায় টুর্নামেন্টের জন্য ক্রিকেটার পাওয়া ছিল কঠিন। তাতে নামী ক্রিকেটারদের অভাব হয় প্রকট। তবুও বাংলাদেশের লিগের গত আসরে সেরা পাকিস্তানি তারকাদের কয়েকজন খেলেছেন, কাটিয়েছেন দারুণ সময়। তাদের বিপক্ষেই আজ সাকিব-লিটনরা মুখোমুখি হবেন। এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে পেছনে ফেলতে চাইবেন বিপিএল সতীর্থদের।

একসময়ের বিপিএল সতীর্থ হওয়ায় পাকিস্তানি তারকাদের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে জানার কথা সাকিবদের। ওই আসরের অভিজ্ঞতা ছাড়া পাকিস্তানকে নিয়ে আলোচনা করার উপায়ও নেই। ওয়ানডেতে এই ম্যাচের আগে সবশেষ ২০১৯ বিশ^কাপে রাউন্ড রবিন পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তাই স্মৃতির ভ্রম হওয়া স্বাভাবিক। তার চেয়ে বরং বিপিএল থেকে তথ্য নেওয়া সহজ।

আজকের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের সেরা একাদশে থাকা ছয় ক্রিকেটার গত বিপিএলে বাংলাদেশের দলগুলোর নিয়মিত সদস্য ছিলেন। বোলারদের মধ্যে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা রউফ ৮ ম্যাচে নিয়েছেন ৯ উইকেট, সেরা ছিল ১৭ রানে ৩টি। ফরচুন বরিশালের হয়ে পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ ওয়াসিম ৭ ম্যাচে নিয়েছেন ৯ উইকেট, সেরা ৩৪ রানে ৩টি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে মাত্র ৩টি ম্যাচ খেলা নাসিম শাহ নিয়েছিলেন ৭ উইকেট, সেরা মাত্র ১২ রানে ৪ উইকেট। পুরো আসর খেলতে পারেননি এই তিন ক্রিকেটারের কেউই। শুধু মোহাম্মদ নাওয়াজই ছিলেন বিবর্ণ। ৬ ম্যাচে ৮৩ রান ও মাত্র ১টি উইকেট নিতে পেরেছেন এই বোলিং অলরাউন্ডার।

ব্যাটারদের মধ্যে কুমিল্লায় পরে যোগ দিয়ে ১০ ম্যাচ খেলা রিজওয়ান ৩৫১ রান করেছেন ৫০ গড়ে। স্বভাবসুলভ ইনিংস ধরে খেলার শিক্ষাটা দিয়ে গেছেন বাংলাদেশ ব্যাটারদের। এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাটারদের শক্তি-দুর্বলতার জায়গা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলেও জানান এই অভিজ্ঞ ওপেনার। এদিকে বরিশালের হয়ে দ্রুততম পঞ্চম উইকেট জুটির রেকর্ড গড়তে সহায়তা করা ইফতিখার ১১ ম্যাচে ৫৮.৫০ গড়ে করেছেন ৩৫১ রান। একটি সেঞ্চুরি করেছেন মাত্র ৪৫ বলে। দুই তারকা খেলেছেন দুই দলে। সেখানে এক দলে ছিলেন সাকিব আল হাসান অপর দলে লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচের আগে দলটির সেরা দুই ব্যাটারের ব্যবচ্ছেদ করতে সাকিব-লিটনের পরামর্শ নেবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট।

সম্প্রতির দৈরথে আরও বড় আলোচনা হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তানি পেস অ্যাটাককে সামলানো। শাহিন-নাসিম-রউফ এই তিন পেসার দলটির ত্রিশূল। ভারতের ধর্মীয় চিহ্ন ওই ত্রিশূলেই পাকিস্তান গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে কাবু করেছিল ভারতকে। দলটির সব উইকেট তুলে নেন পেসাররা। দুর্দান্ত গতি, দুর্বোধ্য সুইং ও বিভ্রান্ত করা সিম পজিশনে একের পর খাবি খেয়েছেন রোহিত-কোহলি-রাহুলরা। শুরুর তিন ব্যাটার হয়েছেন সরাসরি বোল্ড। পাকিস্তানি পেসারদের বিপক্ষ ব্যাটারদের বোল্ড করার রীতিটা পুরনো। তাদের ভয়ংকর পেসে বিপক্ষ ব্যাটারদের বোল্ড হওয়ার দৃশ্য দেখায়ও দারুণ। তবে তা বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের জন্য উপভোগ্য হবে না মোটেই। মোহাম্মদ নাঈম, লিটন, হৃদয়দের নতুন বলের এই ত্রিশূল সামলানোর চ্যালেঞ্জ জিততে হবে। এদিকে এই তিনের সঙ্গে মোহাম্মদ নাওয়াজকে বসিয়ে আরেক পেসার নিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের বিপক্ষে একাদশে থাকছেন ফাহিম আশরাফ। চার পেসার নিয়ে তারা লাহোরের পিচের সর্বোচ্চটা আদায় করতে চায়। পাকিস্তানের পিচ ব্যাটিং সহায়ক সব সময়ই, তবে দেশটির পেস ঐতিহ্যের মতোই পিচগুলোতে পেসারদের দাপটের চিত্র চিরায়ত। তাসকিন-শরিফুলরা যেমন আফগানদের বিপক্ষে জ্বলে উঠেছেন, তেমনি নাসিম-শাহিন-রউফদের হাজার পাওয়ারে জ্বলে ওঠা আলোয় চোখে চশমা লাগিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে বাংলাদেশ ব্যাটারদের।