নতুন বিশ্বকাপ অভিযানে মেসির আর্জেন্টিনা

১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে আর্জেন্টিনার জন্য বাছাইপর্ব অন্যরকম মানে রাখত। আগে ছিল বিশ্বকাপের টিকিট কাটার লড়াই। এবার আবহ ভিন্ন। আর্জেন্টিনা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। এবার বাছাইপর্বে টিকিট নয়, পুরো ট্রফি ধরে রাখার মিশন আলবিসেলেস্তেদের। সেই মিশন আজ ভোরেই শুরু করেছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। এতক্ষণে ফুটবলের সপ্তম স্বর্গে উঠে যাওয়া মেসির পায়ে হয়তো কোনো গোলের মূর্ছনায় বুঁদ হয়ে আছে আর্জেন্টাইন সমর্থকরা। ইকুয়েডরের বিপক্ষে সেই গোলে জয়োল্লাসও হয়ে গেছে। যে উল্লাস কাতার হয়ে এখনো চলছে মেসিদের প্রতি ম্যাচে। যা থাকবে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। হয়তো এরপরেও!

দল বৃদ্ধির বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে পা রাখার যাত্রা ধরল আর্জেন্টিনা। তিনবারের বিশ্বজয়ীদের জন্য এবারের বাছাইপর্বের শুরু যেন গতবারের কার্বন কপি। গতবারও বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচ ঘরের মাঠে ইকুয়েডরের বিপক্ষে খেলে আর্জেন্টিনা। বোকা জুনিয়র্সের মাঠ লা বম্বোনেরায় লিওনেল মেসির ১৩ মিনিটে নেওয়া পেনাল্টি থেকে পাওয়া গোলে ১-০ ব্যবধানের জয়ে বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু হয় দলটির। এবারও একই চিত্র যখন, পথচলার পুনরাবৃত্তির শুরুটা হতেই পারে!

ইন্তার মায়ামির হয়ে যে ফর্ম নিয়ে ছুটছেন মেসি তাতে আজ মেসির আরেকটি জাতীয় দলের গোল না হওয়ার কারণ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে নিজেকে আগে থেকেই মানিয়ে নিতে দেশটির লিগে পা রেখেছেন ফুটবল জাদুকর। পা রাখা থেকেই তার জাদুর ছোঁয়ার বদলে গেছে লিগের সাধারণ দল মায়ামি। এখন তারা নিজেদের ইতিহাসে প্রথম শিরোপাও অর্জন করেছে মেসির সূত্রে। পিএসজি ছেড়ে মেসি মায়ামিতে গিয়েই যেন জীবনের সুখ পাচ্ছেন। ঠিক যেমনটি ২০২২ বিশ্বকাপের যাত্রায় তিনি পেয়েছিলেন নিজের আর্জেন্টিনা দলে। সেই আমেজে থাকা সুখি মেসি আজ আবারও দেশের জার্সিতে জ্বলে উঠবেন এ আর নতুন কি।

ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনিও বলেন সুখি মেসি নতুন সুখাবেশ শুরু করবেন ইকুয়েডর ম্যাচ দিয়ে, ‘আমি যেভাবে মেসিকে এখন দেখছি, দলের সবাই একইভাবে তাকে দেখছে। সে এখন সবচেয়ে সুখি। সে এমন একটি জায়গা খুঁজে পেয়েছে যেখানে সবাই তাকে ভালোবাসে (মায়ামিতে)। আর একইভাবে আর্জেন্টিনাতেও তাকে সবাই সমানভাবেই দেখে। আর মেসি সবসময় ফুটবল মাঠে থাকতে পছন্দ করে। আমরা সবাই একটা বিষয় জানি, দেশ বা ক্লাব যাই হোক না কেন মেসি শুধু ফুটবল খেলাটিই উপভোগ করে ও ভালোবাসে।’ ভুল বলেননি স্কালোনি। গত রবিবার এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই বলেছেন, ‘আমাকে ভালোবাসার জন্য সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের পর ১২ সেপ্টেম্বর বাছাইপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে আর্জেন্টিনা। যেখানে ভূপৃষ্ঠ থেকে ১২ হাজার ফুট উঁচু মাঠে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে মেসিদের। স্কালোনি জানালেন দুই ম্যাচের জন্যই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হিসেবে জার্সি গায়ে দিতে প্রস্তুত মেসি, ‘আমি ফিট মেসিকেই দেখছি। সে খেলার জন্য প্রস্তুত। আমরা সবাই খুশি ফুরফুরে মেজাজের মেসিকে আমাদের পাশে পাচ্ছি বলে। যেমনটা আমি সবসময়ই বলি, আমরা পরিকল্পনাই করি মেসিকে নিয়ে খেলার জন্য। সে আমাদের সঙ্গে আছে। আমাদের অন্য কোনো লক্ষ্য নেই। মেসি মাঠে থাকাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার যতদিন ইচ্ছে খেলবে।’

লাতিন আমেরিকা থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পথটা সহজ। এবার মোট ৬ দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পাবে। আগে যা ছিল চারটি। আর বাছাইপর্বের তালিকায় থাকা পঞ্চম দল এশিয়া অঞ্চলের নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে খেলত প্লে-অফ। এবার তালিকার সপ্তম দল সেই সুবিধা পাবে। মানে ১০ দলের সাতটিরই বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ থাকছে। সেই সুযোগ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে চায় ইকুয়েডর। এর জন্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে শুরুর করার কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে দলটি।

বিশ্বকাপ জয়ের পর এই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে নামছে আর্জেন্টিনা। গত বাছাইপর্ব মিলিয়ে টানা ৩২ ম্যাচ জয়ের পর বিশ্বকাপে গ্রুপের প্রথম লড়াইয়ে সৌদি আরবের কাছে হেরে যায় তারা। এরপর বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচসহ মোট ১০ ম্যাচে জিতেই চলেছে আলবিসেলেস্তেরা। এবার তা আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকছে।