১৯৯০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনদিনের সফরে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে এসেছিলেন ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ। সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মাদাম দানিয়েল মিতেরাঁ। মাদাম মিতেরাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিল আরও আগের। দুবছর আগে বাংলাদেশে হয়ে গিয়েছিল ভয়াবহ বন্যা। সে সময় ছুটে এসেছিলেন মাদাম মিতেরাঁ।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের স্ত্রী ১৯৮৮ সালের বন্যায় বাংলাদেশের জনগণের দুঃখকষ্টের মাত্রা ও ধ্বংসলীলা দেখে উদ্বেলিত হয়ে পড়েন। প্রকৃতির এই রূদ্ররোষের বিরুদ্ধে জনগণের সাহসী সংগ্রাম তাকে অভিভূত করেছিল।
সে সময় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের হয়ে ইন্টারপ্রেটারের ভূমিকা পালনের কথা জানিয়েছিলেন মাদাম মিতেরাঁ। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে তিনি বলেছিলেন, ‘এই বন্যার ব্যাপারে বর্হিবিশ্বে আমি আপনার দেশের হয়ে ইন্টারপ্রেটার হিসাবে কাজ করবো।’
১৯৮৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ওই বন্যার সংকটময় সময়ে যখন বাংলাদেশের বৃহৎ অংশ ভেসে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় অ্যাকশন পরিকল্পনার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল ফ্রান্স। এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এক কোটি ফ্রাঁ অর্থ সাহায্যের ঘোষণা দেয় দেশটি। পরে ১৯৯০ সালে সফরে এসে আরও ১৪ কোটি ফ্রাঁ অর্থ সাহায্যের ঘোষণা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফর ছিল তিন দিনের। ২৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ছাড়েন তিনি। এর আগের তিন দিনে বেশ কয়েকটি বৈঠক ও স্থান পরিদর্শন করেন।
এই সফরের তিন দশক পর আবারও কোনো ফরাসি প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরে আসছেন। আজ রবিবার রাতে বাংলাদেশে আসবেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইমানুয়েল মাখোঁ ঢাকা সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এ ছাড়া তিনি ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই দেশের শীর্ষ নেতার সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: শব্দের চেয়ে দ্বিগুণ গতির কনকর্ডে চড়ে এসেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট
আরও পড়ুন: যে কারণে ফরাসি প্রেসিডেন্টকে এখনও মনে রেখেছে চাঁদপুরের মানুষ