খেলায় হেরে অন্য স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারধর

সিংগাইরে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে গ্রীষ্মকালীন খেলায় হেরে যাওয়ার জেরে জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মারধরের শিকার হয়েছেন সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের জয়মন্টপ বাসস্ট্যান্ডে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলের মূল ফটকের সামনে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা রাস্তায় টায়ার জ¦ালিয়ে বিক্ষোভ করেন ও ঘটনার বিচারের দাবি জানান। এ সময় ওই সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। দুপুর ১টার দিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সানজিদা জিয়াসমিন ও উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার বিকেলে সিংগাইর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গ্রীষ্মকালীন খেলা কাবাডি ও হ্যান্ডবল প্রতিযোগিতা শেষে ওই স্কুলের শিক্ষার্থী নাদিমের নেতৃত্বে ১০-১২ জন জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান কাইয়ুমসহ কয়েকজনকে বেধড়ক মারপিট করে। তাদের রক্ষা করতে এসে দুই শিক্ষক মনিরুজ্জামান ও আবদুস সালামও মারধরের শিকার হন।

জয়মন্টপ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু রাধেশ্যাম সাহা বলেন, ইউএনও সার নিষেধ করা সত্ত্বেও উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খাঁন ও সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্রাম হোসাইনের কথায় শিক্ষার্থীদের আমি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য পাঠাই। সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরাজিত হওয়ায় আমাদের শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারপিট করে। এতে দুই শিক্ষকসহ ৪-৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্রাম হোসাইন বলেন, ‘খেলা শেষে স্কুল ক্যাম্পাসের বাইরে মারপিটের ঘটনা ঘটলেও কে বা কারা মারধর করেছে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।’

মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমি একটি দুর্ঘটনাজনিত কারণে খেলায় উপস্থিত থাকতে পারিনি। মারধরের ঘটনা শুনেছি।’

সিংগাইর থানার ওসি (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো বলেন, ‘মারধরের ঘটনা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, ‘বড় একটি অনুষ্ঠান থাকায় আমি এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় খেলাটি স্থগিত রাখতে বলেছিলাম। যারা খেলাটি চালিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।’