পণ্যের দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাওয়া ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ কথা জানান। প্রশ্নোত্তরে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, দেশে জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা নেই। সরকারি দলের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যাওয়া রোধের জন্য বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৭০টি বাজার অভিযান পরিচালনা করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চলতি আগস্ট পর্যন্ত ১ হাজার ৮০৩টি বাজার অভিযানের মাধ্যমে ৪ হাজার ১৩৭টি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৩৩ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ১২৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকেও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীতে ৭৩৭টি বাজার মনিটরিং করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, সরকার আপদকালীন মজুদের জন্য দেশব্যাপী নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বর্তমানে বোরো-২০২৩ সংগ্রহ মৌসুম চলমান। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৮৬ টন ধান এবং ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৮ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে।

একই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিবিএস প্রদত্ত তথ্যমতে, ৪০২ দশমিক ৯ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধান উৎপাদিত হয়েছে ২৯ দশমিক ১ লাখ টন, আমন ধান ১৫৪ দশমিক ২৬ লাখ টন, বোরো ধান ২০৭ দশমিক ২২ লাখ টন এবং গম উৎপাদিত হয়েছে ১১ দশমিক ৬০ লাখ টন। তিনি আরও জানান, প্রতিটি মানুষ দৈনিক ৩৫১ দশমিক ৮০ গ্রাম (চাল ৩২৮ দশমিক ৯০ গ্রাম এবং গম ২২ দশমিক ৯০ গ্রাম) খায়। সে হিসাবে ২০২২-২৩ সালে মোট খাদ্যশস্যের প্রয়োজন হয় ২১৮ দশমিক ৪ লাখ টন। যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের মোট উৎপাদনের চেয়ে কম।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের এক প্রশ্নের জবাবে খাদ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের জনসংখ্যা (বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২২) যদি বেড়ে ১৭ কোটি ১৮ লাখ হয়, তাহলেও দেশে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।

এক বছরে সোয়া ১১ লাখ বাংলাদেশির বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে এক বছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১১ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৩ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমেদ। তিনি আরও জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ফলে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১১ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৩ জন কর্মীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে। জনশক্তি ও কর্মসংস্থান ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীনে বর্তমানে ১০৪টি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজিসহ ১১০টি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৫৫টি কর্মসংস্থান উপযোগী স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি দলের শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গমনকারী কর্মীর সংখ্যা ১ কোটি ৫৫ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন (জুলাই ২০২৩ পর্যন্ত)। নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা অধিক পরিমাণে জনশক্তি পাঠানোর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে মালদ্বীপ, ব্রুনাই দারুস সালাম ও গ্রিসের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী জানান, জনশক্তি রপ্তানির জন্য ১৮টি দেশ এবং চীনের স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক রয়েছে। দেশগুলো হলো কুয়েত, কাতার, ওমান, লিবিয়া, মালদ্বীপ, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, জর্ডান, বাহরাইন, ইরাক, ইউএই, সৌদি আরব, ব্রুনাই, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, কম্বোডিয়া, গ্রিস এবং জাপান। ভবিষ্যতে মাল্টা, আলবেনিয়া, রোমানিয়াসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষর করার পরিকল্পনা রয়েছে।