ফেনী

নির্দেশনার তোয়াক্কা নেই, সড়কে গাড়ি থামিয়ে টোল আদায়

টার্মিনাল ছাড়া সড়ক ও মহাসড়কে কোনো টোল আদায়ে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ফেনীর সোনাগাজীতে এটি মানা হচ্ছে না। এ উপজেলার কয়েকটি স্থানে আদায় করা হচ্ছে পৌর টোল।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে সোনাগাজী পৌর শহরের জিরো পয়েন্ট ও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন স্থানে পরিবহন বাস, ট্রাক, পিকআপ ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক থেকে নির্ধারিত হারে পৌর টোল আদায় করতে দেখা গেছে।

গেল বছরে গাড়ির গতি থামিয়ে দেশের কোনও সড়ক বা মহাসড়কে কোনও ধরনের টোল আদায় করা যাবে না জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে গত বছরের ২১ এপ্রিলের আদেশের আলোকে টার্মিনাল ছাড়া কোনও সড়ক বা মহাসড়ক থেকে টোল উত্তোলন না করার জন্য সব সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভার মেয়রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

অথচ, এই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সোনাগাজী পৌরশহরের প্রবেশপথের সড়কে দাঁড়িয়ে প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে পৌর টোল আদায় করা হচ্ছে।

সোনাগাজী পৌরসভার জিরো পয়েন্টে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন পরিবহন থেকে চলাচলরত যাত্রীবাহী বাস থেকে পৌর টোল আদায়কারী সিরাজ উদ্দিন বলেন, টোল আদায় বন্ধ করার জন্য ইজারাদার ও পৌরসভা থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমি দৈনিক ৪৫০ টাকা বেতনে ইজারাদার হেলাল উদ্দিনের চাকরি করছি। তাই ইজারাদারের নির্দেশে টোল আদায় করছি।

ইজারাদার হেলাল উদ্দিন বলেন, পৌর মেয়র টোল আদায় না করার জন্য আমাদের কোনো নির্দেশনা দেয়নি। আমি বৈধ প্রক্রিয়ায় ইজারা নিয়েছি এবং ইজারার শর্ত মেনে টোল আদায় করছি।

চট্টগ্রাম থেকে সুবর্ণচর অভিমুখি ট্রাকের চালক সেলিম মিয়া বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আসার সময় তিনটি পৌরসভা পার হয়ে এসেছি, কিন্তু টোল দিতে হয়নি। সোনাগাজী পৌরসভা অতিক্রম করার সময় ৭০ টাকা টোল দিতে হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর শহরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, মেয়র কোনো আইনের তোয়াক্কা করেন না। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে থাকায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অপকর্ম করেই যাচ্ছেন। প্রশাসনও তার ভয়ে তটস্থ থাকে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পৌর কার্যালয়ে গেলে মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকনকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো উত্তর দেননি।