গেলো সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় ড্যানিয়েল এবং এর প্রভাবে ভয়াবহ বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর দেরনা। নদীর বাঁধ ভেঙে জলোচ্ছ্বাসের মত পানি শহরে প্রবেশ করায় লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় পুরো শহর, ভেসে যায় হাজার হাজার মানুষ।
এখন পর্যন্ত দেরনার বিভিন্ন ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১১ হাজারের বেশি মরদেহ। এখনও নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২০ হাজার মানুষ।
দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ নিহতের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে লিবিয়ার বিদ্রোহী সরকারের কর্মকর্তাদের ওপর। দেশটির জনগণ, জাতিসংঘ ও অন্যান্য দেশের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের অবহেলা ও অসতর্কতার কারণেই ঘটেছে এই বিপুল প্রাণহানি।
কিন্তু এই প্রাণহানির দায় নিতে অস্বীকার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পূর্ব লিবিয়ার এক কর্মকর্তা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, যে গত সপ্তাহান্তে ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের অনেককে তাদের বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছিল। খবর বিবিসি নিউজ।
বেনগাজি ভিত্তিক সরকারের মুখপাত্র ওসমান আব্দুল জলিল বিবিসিকে জানান, সৈন্যরা দেরনা শহরের লোকজনকে পালিয়ে যেতে সতর্ক করেছিলো।
লোকজনকে শহর থেকে না সরার কথা বলা হয়েছিলো এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। তবে সরকারের সতর্কবার্তা অনেকেই অতিরঞ্জিত মনে করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে, ঝড়ের প্রায় সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও দেরনায় এখন পর্যন্ত সাহায্য সংস্থাগুলো পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসির সাংবাদিক দল।
বিবিসি জানায়, সাংবাদিকরা দেরনার একটি কেন্দ্রে উদ্ধারকারী, অ্যাম্বুলেন্স ক্রু এবং ফরেনসিক দলগুলি মৃতদের শনাক্ত করার জন্য কাজ প্রত্যক্ষ করায় সময় দেখেছে যে সেখানে সামান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলি ছাড়া লিবিয়া সরকারের কোন সাহায্য চিহ্ন ছিলো না।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইএফআরসি) থেকে টমাসো ডেলা লঙ্গা বলেন, "এক সপ্তাহ আগে লিবিয়া আরও জটিল ছিল।"
তিনি আরও বলেন, ঝড় ও বন্যায় রাস্তা এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের একজন মুখপাত্র জেনস লায়ের বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত এবং মৃতদেহ রয়েছে এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।