যে স্মৃতি মনের ফ্রেমে বাঁধা থাকবে আজীবন

সবার যেমন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন থাকে আমারও তেমন স্বপ্ন ছিল। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল আমি ঢাবিতে চান্স পাবই, ইনশাল্লাহ! অবশেষে ঢাবিতে চান্স পেলাম।  ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষী আরবি বিভাগে। ভর্তি কার্যক্রম শেষ করার পর অপেক্ষা করতে লাগলাম ক্লাস শুরু হওয়ার। অতঃপর নোটিস এলো ২০ আগস্ট থেকে ক্লাস শুরু হবে। স্বভাবতই মনের মধ্যে একটা আনন্দ কাজ করছিল। বিশ^বিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস বলে কথা। নতুন ক্লাস, নতুন শিক্ষক, নতুন সহপাঠী, নতুন ক্লাসরুম, নতুন পরিবেশ সবমিলিয়ে নতুন একটা জগতের মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। আমার একটা বৈশিষ্ট্য হলো, আমি নতুন পরিবেশের সঙ্গে বেশ মানিয়ে নিতে পারি। তাই একটু নিশ্চিন্তে ছিলাম বলা যায়।

এরপর এসে গেল কাক্সিক্ষত সেই দিন। প্রথম দিন তাই একটু তাড়াতাড়িই ক্যাম্পাসে পৌঁছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম আমার ডিপার্টমেন্টের সহপাঠীরা বটতলায় বসে আছে। এরপর পরিচিত হলাম নতুন সহপাঠীদের সঙ্গে। পরিচিত হয়ে ভালোই লাগল। বটতলায় বসে কথাবার্তা চলল ক্লাসে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। এরপর ক্লাসে চলে গেলাম সবাই।

যথাসময়ে স্যাররা এলেন ক্লাসে। আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক স্যারসহ আরবি বিভাগের অন্য স্যাররা দিকনির্দেশনামূলক কিছু কথা বললেন। এরপর গ্রুপ বিভাজনের জন্য কিছু প্রশ্নোত্তর চলল আরবিতে। তাদের মধ্য থেকে স্যাররা নির্বাচন করে ‘ক’ এবং ‘খ’ দুটি গ্রুপ করলেন। আমি ছিলাম ‘ক’ গ্রুপে।

যেহেতু প্রথম দিন ছিল সে জন্য কোনো ক্লাস হলো না। স্যারদের কথাবার্তার পর ছুটি হয়ে গেল। এরপর ক্লাস রুটিন দেওয়া হলো। তারপরের দিন অর্থাৎ ২১ আগস্ট থেকে ক্লাস শুরু হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হলো। এরপর সবাই মিলে খুবই আনন্দঘন একটা পরিবেশে ক্লাস থেকে বের হলাম। সবমিলিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রথম দিন, প্রথম ক্লাসটা ছিল আমার বিশ^বিদ্যালয় জীবনের একটি স্মৃতিময় দিন। যে স্মৃতি মনের ফ্রেমে বাঁধা থাকবে আজীবন।

জোবাইদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, সম্মান (প্রথম বর্ষ), আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়