ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক বছরেও কাজ শুরু হয়নি

ঢাকার ধামরাই উপজেলায় চার বছর ধরে চেষ্টা চলছে উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের। তিন বছর সময় নিয়ে স্থান নির্ধারণের পর ৪৩ শতক জমির সব ধরনের গাছপালা কেটে সাফ করে গত বছর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়। কিন্তু নির্মাণ সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতসহ বিভিন্ন কারণে মূল কাজে হাত দিতে পারেনি ঠিকাদার।

জানা গেছে, ধামরাই সরকারি বিশ^বিদ্যালয় কলেজের পশ্চিম পাশে ৪৩ শতাংশ জমির ওপর নির্মিত হবে এই মডেল মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মসজিদের নামে জমি ওয়াকফ করে দেওয়ার পর ওই জমির যাবতীয় কাগজপত্র গণপূর্ত সাভার অঞ্চলকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধামরাই উপজেলা শাখার ইনচার্জ রেজাউল করিম। ২০২২ সালের ২২ আগস্ট মডেল মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমদ।

জানা গেছে, আধুনিক সুবিধা সংবলিত এ মডেল মসজিদে পুরুষ ও নারীদের আলাদাভাবে নামাজের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়াও কোরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, লাইব্রেরি, গবেষণাকেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মরদেহের গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমামদের প্রশিক্ষণ, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামি সংস্কৃতি কেন্দ্রসহ প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকার কথা।

ধামরাইবাসী দিনের পর দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছে। আদৌ কি মডেল মসজিদটি নির্মিত হবে? নাকি শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শত শত মডেল মসজিদের উদ্বোধন করা হলেও ধামরাইয়ের মসজিদটির কাজই এখনো শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র বড় বড় গাছ কেটে পরিষ্কার করা হয়েছে।

মডেল মসজিদ নির্মাণের ঠিকাদারের কাজ প্রথমে পান আবদুল মাজিদ নামে এক ব্যক্তি। নকশায় মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি আর কাজে এগিয়ে আসেননি। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় ২০২৩ সালের মে মাসে নতুন টেন্ডারে কাজটি পান কবির হোসেন নামে এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে বর্তমান ঠিকাদার কবির হোসেন বলেন, এখনো ওয়ার্ক সিট তৈরি করা হয়নি। তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে। ২০১৮ সালে এর টেন্ডার হয়েছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি। কিন্তু বর্তমানে নির্মাণ সামগ্রীর দাম অনেক বেশি। একটু সময় লাগবে। তারপরও যতটুকু সম্ভব তাড়াতাড়ি মসজিদের কাজ শুরু করার চেষ্টা করব।

এ ব্যাপারে কথা বলতে পিডব্লিউডি (পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্ট) সাভার অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী আহসান হাবীবকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ধামরাই উপজেলা শাখার ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, দেশের প্রায় সব মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হয়ে গেছে। শুধু আমাদের ধামরাইতে জায়গা নির্ধারণ করতে সময় লেগেছে তিন বছর। এরপরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতিহারে নির্বাচনের আগেই এটি নির্মাণ করার কথা।