আমাতুল বারী নাফিসা। বয়স সাড়ে চার বছর। কিন্তু এই বয়সেই শিশুটিকে জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে পড়তে হয়েছে এক ভুল চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রোপচারে। শিশুটির জীবন রক্ষার জন্য শিক্ষিকা ও ব্যাংক কর্মকর্তা দম্পতি নাফিসাকে নিয়ে তিন মাস ধরে অবস্থান করছেন ভারতের ভেলোরে।
নাফিসার বাবা নুরুল ইসলাম পূবালী ব্যাংক মৌলভীবাজার প্রধান কার্যালয়ে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত এবং মা শারমিন আক্তার মৌলভীবাজারের কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা।
দম্পতির অভিযোগ, ঢাকায় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হসপিটালের চিকিৎসক ডা. এহসানুল বারী রাহাতের ভুল চিকিৎসায় তাদের মেয়ের এ অবস্থা। ইতিমধ্যে তারা চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনসহ একাধিক জায়গায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, নাফিসার মাথার পেছন দিকে একটি ব্রণ দেখা দিলে চলতি বছরের ১০ মার্চ মৌলভীবাজার শহরের বেরিরপারের রয়েল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডা. এহসানুল বারী রাহাতের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডা. রাহাত নাফিসাকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করাতে উদ্বুদ্ধ করেন।
পরে ১৮ মার্চ ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাফিসার মাথায় অপারেশনে অংশ নেন ওই অপারেশনের এখতিয়ার না থাকা ডা. এহসানুল বারী রাহাত। ভুল অপারেশনের কারণে আরও অনেকদিন ভর্তি থাকতে হয় আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অথচ আগে ডা. রাহাত বলেছিলেন, এটা ছোট অপারেশন। অল্প সময়ে অপারেশন শেষ করে হেঁটে বাসায় চলে যাবে আর খরচ হবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।
কিন্তু অপারেশনের পর সেখানকার অন্যান্য ডাক্তার ও দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে শিশুটির বাবা জানতে পারেন, নাফিসার ভুল অপারেশন হয়েছে। তার সিটিস্ক্যান করা হবে এবং হাসপাতালের আইসিইউতে রাখতে হবে। আরও জানা যায়, এটা ছিল রক্তনালির টিউমার। যাকে হেমানজিওমা বলা হয়। যা অপারেশন করার কোনো প্রয়োজন ছিল না। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তারদের নিয়ে চিকিৎসা বোর্ড গঠন করে আবার অপারেশন করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২২ মার্চ হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়।
এরপর ৩১ মার্চ অপারেশনের সেলাই কাটতে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতস্থানে পুঁজ জমে ইনফেকশন হয়ে মাংস পচে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
নাফিসার বাবার অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে মেয়ের যেভাবে ক্ষতি হয়েছে তেমনি আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। বর্তমানে ভারতের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ ভেলোরে তিন মাস যাবৎ নাফিসা চিকিৎসাধীন। এখানে প্রায় ১ বছর চিকিৎসা করাতে হবে।
এ বিষয়ে জানতে ডা. এহসানুল বারী রাহাতের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল এবং খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, ডা. এহসানুল বারী রাহাত নিউরো সার্জন নন। অপারেশন করা তার ঠিক হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।