স্পন্সরশিপ নিয়ে কেন এত লুকোচুরি

খেলার দুনিয়া আর্থিক চুক্তির অর্থ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের চল নতুন নয়। নেট ঘাঁটলেই জানা যায় যেকোনো ছোট-বড় চুক্তির খবর। সেটা খেলোয়াড়ের সঙ্গে ক্লাবের হোক, কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পন্সরের। ব্যতিক্রম কেবল বাংলাদেশ। এখানে স্পন্সরশিপের অর্থের অঙ্কটা প্রকাশ না করাটাই যেন বিশাল কৃতিত্বের ব্যাপার। এই যেমন বারবার প্রশ্ন করার পরও গতকাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে জানা যায়নি বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে আসন্ন তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের স্পন্সরশিপের অঙ্ক; বরং এটা জানতে চাওয়ায় খানিকটা মেজাজ হারাতে দেখা গেছে বিসিবিকে স্পন্সর জোগাড় করে দেওয়ার দায়িত্ব পাওয়া ইমপ্রেস-মাত্রা কনসোর্টিয়ামের এক শীর্ষ কর্তা।

গতকাল ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া সিরিজের টাইটেল স্পন্সরের নাম ঘোষণার অনুষ্ঠানে সেই কর্তা উল্টো জানালেন, বিসিবির সঙ্গে চুক্তির অর্থ জোগান দিতে গিয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। আসন্ন সিরিজের টাইটেল স্পন্সর হয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। এ ছাড়া পাওয়ারড বাই ও কো-স্পন্সর হিসেবে আছেন এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরই দুই অঙ্গ সংস্থা রকেট ও নেক্সাস-পে।

বিসিবির পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ টিটু এবং ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস গতকাল ডিবিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাসেম মোহাম্মদ শিরিন ও মাত্রার ম্যানেজিং পার্টনার সানাউল আরেফিনকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন স্পন্সর ঘোষণা অনুষ্ঠানে। সেখানে সাংবাদিকরা স্পন্সরের অর্থ জানতে চাইলে উপস্থিত কেউই সেটা জানাননি। উল্টো মাত্রার শীর্ষ কর্তা সানাউল আরেফিন বলেন, ‘বিসিবির সঙ্গে আমাদের দুই বছরে ১০টি সিরিজের জন্য স্পন্সর এনে দেওয়া বাবদ যে টাকা দেওয়ার কথা সেটা কিন্তু আমাদের দিতে হচ্ছে। করোনা মহামারীর পর যুদ্ধের (রাশিয়া-ইউক্রেন) কারণে আমরা সবাই খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। আগে আমরা টেন্ডার জিতে বসে থাকতাম। স্পন্সররা লাইন দিয়ে এসে সেটা কিনে নিত। আর সর্বশেষ কয়েকটি সিরিজে আমাদের স্পন্সর বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আনতে হয়েছে। ১৫-২০ কোটি টাকা ক্ষতি মেনেই চুক্তি মেনে কাজ করতে হচ্ছে। এই ক্ষতির বিষয়টি তো আপনারা লেখেন না। এখন জানতে চাইছেন এই স্পন্সর এনে আমরা কত লাভ করলাম?’

বিসিবির কর্তাদের পাশে বসে সানাউল আরেফিন যে বক্তব্য রাখলেন, তাতে ক্রিকেটের নেতিবাচক দিকটাই প্রকাশিত হলো। যদিও বোর্ড কর্তারা দাবি করছেন, করোনা ও যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেললেও বিসিবিকে সেভাবে কোনো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ছাড়াও ওয়ানডে বিশ^কাপের পর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজেরও টাইটেল স্পন্সর তারা।