শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। পরে জাতীয় জরুরি সেবার নম্বর ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ নির্যাতনের সময়ের ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ গত মঙ্গলবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হয়।
ওই ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার নারীর ডান পা একটি ঘরের খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা। তিনি বসে চিৎকার করে কাঁদছেন। তার চারপাশে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করছে না। নির্যাতনকারী প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ তাকে সহযোগিতা করেনি বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরকুমারিয়া ইউনিয়নের সখিপুর থানার গাজীপুর ছামিদ আলী সরদারকান্দি গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী একই গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার মেয়ে বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে সখিপুর থানায় মামলা করেছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাকি সাত আসামি পলাতক।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, নাজিমুদ্দিন সরদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে নির্যাতনের শিকার নারীর। গত ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি জমিতে পাট কাটতে গেলে নাজিমুদ্দিনের ভাইরা এবং ছেলে খোকন সরদারসহ ১৫-২০ জন তাকে ব্যাপক মারধর করে। পরে বাড়িতে নিয়ে হাত-পা ঘরের খুঁটির সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়। পরে ওই নারীকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘নাজিমুদ্দিন সরদারদের সঙ্গে আমাদের জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে ফসলি জমির মধ্যে আমাকে একা পেয়ে তারা ১৫-২০ জন মিলে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে। আমাকে কাদাপানিতে চুবিয়েছে। আমাকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে। একটা সময় আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার পা একটি ঘরের খুঁটিতে শিকল দিয়ে বাঁধা। আমি এ নির্যাতনের বিচার চাই।’
তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিমুদ্দিন সরদার বলেন, ‘ওই নারী যেন ঘরের ভেতরে গিয়ে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটাতে পারে, সেজন্য তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আমরা তাকে নির্যাতন করিনি।’
সখিপুর থানার ওসি আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার নারীর মেয়ে বাদী হয়ে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।’