ধলেশ্বরীতে পাকা সেতু চান ৫০ গ্রামের মানুষজন

‘রাইত ৮টার পর থেকে পরেরদিন হকাল ৬টা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা খেয়া পারাপার বন্ধ থাকে। এই সময়ে যত বড় বিপদই আসুক নদী পারাপারের কোনো ক্ষেমতা নেই। আবার দিনের বেলায় ঝড়-বৃষ্টি অয়লেও ক্ষেমতা নাই নদী পারের। দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি আমরা।’

এভাবেই বলছিলেন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের কাকরাইদ গ্রামের বাসিন্দা আতোয়ার রহমান। গত ১৯ আগস্ট সাটুরিয়া-দৌলতপুর উপজেলাকে বিচ্ছিন্ন করা নদী ধলেশ^রীর গোপালপুর-রাজর খেয়াঘাট পাড়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

সকাল ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের ধলেশ^রীর পাড়ঘেঁষা গোপালপুর বাজারের খেয়াঘাট দিয়ে সাটুরিয়া ও দৌলতপুর উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছেন। প্রতিদিন ছয় শতাধিক কৃষক শুধু দুধ নিয়ে আসেন এ বাজারে। দৌলতপুর সীমান্তবর্তী ইউনিয়নগুলোর বিভিন্ন গ্রামের মানুষের ভরসা ঐতিহ্যবাহী এ গোপালপুর বাজার।

তা ছাড়া, এ খেয়াঘাটের কাছেটই দুটি উচ্চবিদ্যালয় ও কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী অফিসে যাতায়াত করতে হলে ধলেশ^রী পার হতেই হবে। দৌলতপুর উপজেলার কয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ঢাকা যেতে হলেও এই নদী পার হয়ে সাটুরিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঢাকার গাবতলী যেতে হয়।

রাজর খেয়াঘাটে পারাপারের অপেক্ষারত আবুল বাশার বলেন, সেতু হলে দুই মিনিটের কম সময়ে পার হতাম। কিন্তু এখন ৪০ মিনিট অপেক্ষা করে খেয়ায় উঠলাম।

উজ্জ্বল হোসেন নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘সন্তানসম্ভবা নারীসহ অন্য রোগীদের রাতে হাসপাতালে নিতে পারি না। রাত ৮টা বাজলেই অপেক্ষা করতে হয় আরও ১০ ঘণ্টা।’

এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ ফটো বলেন, আগামী উপজেলা ও জেলা মাসিক সমন্বয় সভায় এখানে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি লিখিতভাবে জানাব।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, গোপালপুর-রাজর ঘাটে ৪৮০ মিটার সেতুর ডিজাইন পাস হয়েছে। আশা করছি টেন্ডারসহ বাকি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে।