বৃষ্টির আগে মোস্তাফিজ ঝলক

আশ্বিনের শুরু, কিন্তু আবহাওয়ায় ঘোর শ্রাবণ। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। সেপ্টেম্বরের শেষে এসে সন্ধ্যাবেলার বাতাসে হালকা শিশিরের ছোঁয়ার বদলে মেঘমল্লারে তুমুল বৃষ্টি। তাতে করে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচটা ভেসেই গেল। দলে ফিরে তামিম ইকবাল আর মাহমুদউল্লাহ ব্যাট হাতে পরীক্ষা দিতে পারলেন না। কয়েকবার বৃষ্টির বাগড়ায় ম্যাচ থামার পর বৃহস্পতিবার রাত ৮-২৬ মিনিটে আসে খেলা পরিত্যক্ত হওয়ার ঘোষণা। তার আগ পর্যন্ত টসে হেরে আগে ব্যাটিং করা নিউজিল্যান্ড ৩৩.৪ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে করেছিল ১৩৩ রান।

বছর দুই আগেও বাংলাদেশে এসেছিল নিউজিল্যান্ড দল, ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। এবার যেমন সামনেই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ, সেবার ছিল কদিন পরই টি-২০ বিশ্বকাপ। এবারে তাও ব্ল্যাকক্যাপদের বিশ্বকাপ দলের জনাপাঁচেক ক্রিকেটার আছেন বাংলাদেশ সফরের দলে, করোনা মহামারীর মধ্যে সেবার পুরো আলাদা দলই পাঠিয়েছিল এনজেডসি। ১০ দিনের ভেতর ৫টা টি-টোয়েন্টি হয়েছিল রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মধ্যেই, তবে সবগুলো ম্যাচই হয়েছিল পূর্ণ ওভারেই। এবারে প্রথমেই হোঁচট। সিরিজ শুরুর ম্যাচটা অর্ধেকও হলো না, নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ৩৩ ওভার কোনোরকমে শেষ করার পর বৃষ্টির বাধায় আর খেলা এগোনো যায়নি। শুরুতে ৫০ ওভার, এরপর বৃষ্টির বাধায় কমে হয় ইনিংস প্রতি ৪২ ওভারের ম্যাচ। এরপর তো আর খেলাই হলো না। খেলায় নিষ্পত্তি না হলেও কিছুটা স্বস্তির দৃশ্য যেমন দেখা গেছে তেমনি জেগেছে কিছু প্রশ্নও। সেই ২০২১ সালের মতো বিশ্বকাপের ঠিক আগেভাগে, মিরপুরের প্রথাগত উইকেটে খেলাটা বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য কতটা সহায়ক?

ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ম্যাচে প্রথম স্পেলটা ভালো না করলেও দ্বিতীয় স্পেলে এসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। জানান দিয়েছেন নতুনদের আগমনের ভিড়ে তিনি এখনো ফুরিয়ে যাননি। তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদদের আগমনে অ্যালান ডোনাল্ডের খাতায় মোস্তাফিজ খানিকটা পিছিয়ে, হয়তো গতির দৌড়ে পিছিয়ে থাকার কারণেই। কলম্বো থেকে ঢাকা, মোস্তাফিজ বদলাননি। মিরপুরে তার বলে দেখা গেছে সেই কাটার, ব্যাটসম্যানরা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং উইকেট দিয়েছেন। বিপজ্জনক ফিন অ্যালেন আর তরুণ চ্যাড বোওয়েজ, দুজনকেই দারুণভাবে লেন্থে বিভ্রান্ত করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন ‘দ্যা ফিজ’। উইকেটের পেছনে ফেরা নুরুল হাসান সোহানের কৃতিত্বও তাতে কম নয়। ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ক্যাচ ধরেছেন সোহান।

দলীয় ১৬ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর হেনরি নিকোলস আর উইল ইয়ং মিলে বেশ সামলে নিয়েছিলেন। ৩য় উইকেটে ১১৭ বলে ৯৭ রানে জুটি গড়ে দুজনেই নিউজিল্যান্ডকে একটা ভালো অবস্থানের দিকে যখন নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই মোস্তাফিজের ফের আঘাত। লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন ৪৪ রান করা ইয়ংকে। ব্ল্যাকক্যাপ টপ অর্ডারের প্রথম ৩টা উইকেটই মোস্তাফিজের। বৃষ্টিতে খেলা থেমে যাওয়ার একটু আগে, ৩১তম ওভারে নাসুম আহমেদের জোড়া আঘাত নিউজিল্যান্ডকে ঠেলে দিয়েছিল ব্যাকফুটে। ওভারের দ্বিতীয় বলে উইল ইয়ং খানিকটা ধৈর্যহারা হয়ে উইকেট ছেড়ে বেরিয়েছিলেন। হয়তো ৫০ করার পরের ক্লান্তিতে। সুযোগে স্টাম্পিং সোহানের। আর চতুর্থ বলে রচীন রবীন্দ্রকে আম্পায়ার প্রথমে আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল নাসুম, করেছেন জোড়া শিকার।

বছর দুই আগের সেই সিরিজেও দুই বামহাতি, মোস্তাফিজ আর নাসুমের কাছে নাকাল হয়েছিল কিউইরা। দুজনেই নিয়েছিলেন ৮টি করে উইকেট। কালও যেন সেই ইঙ্গিত। ৫ উইকেটই পড়েছে বামহাতি বোলারের বলে। পুরো খেলা হলে নিঃসন্দেহে সংখ্যাটা আরও বাড়ত।

তাসকিন, হাসান/শরীফুলদের জন্য নতুন বলে বোলিংটা কমই করছেন মোস্তাফিজ। কাল শুরুর ৩টা উইকেট নিয়ে এই পেসার যেন জানান দিলেন, নতুন বলটা চাইলে তার হাতেও দিতে পারেন অধিনায়ক। নাসুম প্রথাগত ভাবেই কাজে লাগিয়েছেন মিরপুরের উইকেটের সুবিধা। তবে প্রশ্ন হচ্ছে; দিল্লি, পুনে বা ধর্মশালায় কি এই সুবিধা পাবেন নাসুম?

২০২১ সালে যে ধরনের উইকেট বানিয়ে দেশে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের আগে মিথ্যা আত্মবিশ্বাসের বেলুন ফুলিয়েছিল বাংলাদেশ, এবারও সেই একই রকম উইকেট। হয়তো এশিয়া কাপে ভালো না করার সমালোচনা চাপা দিতে দেশের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার দাওয়াই। কিন্তু এতে করে আখেরে যে লাভ হয় না সেটা তো প্রমাণিত। ভাগ্যিস লিটন দাস টস জিতেও ব্যাটিং নেননি। না হলে তামিম ইকবালের প্রত্যাবর্তনটা দুঃস্বপ্নের মতোও হতে পারত। প্রতিপক্ষে কিন্তু লকি ফার্গুসনের সঙ্গে ট্রেন্ট বোল্ট, কাইল জেমিসনরাও আছেন।