ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে হাসামদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। গত ১০ বছর ধরে তিনি অসুস্থ। আগে মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে এলেও গত দুই বছর ধরে পুরোপুরি অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের আইসিটি শিক্ষককে চেনে না। পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা।
জানা যায়, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়ায় অবস্থিত হাসামদিয়া ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক শিবানি সরকার (৪০) গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মারাত্মক অসুস্থ। ওই শিক্ষক এখন তার স্বামীর কর্মস্থল শরীয়তপুর থাকেন। অভিযোগ আছে, মাস শেষে একবার বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতা এবং বেতন শিটে স্বাক্ষর করেন। আগস্ট মাসের শেষ দিকেও তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। প্রথম দিকে মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে গেলেও গত দুই বছরে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণে একদিনও ক্লাসে গিয়ে পাঠদান করাতে পারেননি। সাবেক প্রধান শিক্ষকের সময় অসুস্থ শিক্ষক শিবানি সরকার স্কুলে যেতেন কিন্তু ক্লাস নিতেন না। অসুস্থতার কারণে ক্লাস নিতে অক্ষম হওয়ায় একটা পর্যায়ে শিবানি সরকারের পরিবারের পক্ষ থেকে তার বোনকে দিয়ে ক্লাস নেওয়ার সুযোগ চায়। কিন্তু বিষয়টি বিধি মোতাবেক না হওয়ায় সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক তাতে রাজি হননি।
সূত্র জানায়, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় বিয়ের আগে শিবানি সরকারের একবার অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকরা তখন তাকে শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে বিয়ে এবং সন্তান ধারণ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বিয়ের পর গর্ভধারণ করলে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং সন্তান প্রসব পর্যন্ত দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকেন। এরপর থেকেই তিনি মারাত্মক অসুস্থ। অনেক দিন ধরে শিক্ষক শিবানি সরকারের হাত, পা, মুখ বেঁকে গেছে। স্বাভাবিক কোনো কাজ করতে পারেন না।
সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানায়, শিবানি ম্যাডাম নামে কাউকে তারা চেনে না।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান প্রধান শিক্ষক আয়ুবুর রহমান এবং বিদ্যালয়টির সভাপতি স্থানীয় বিএনপি নেতা একেএম আবদুস সাত্তার মোল্যা ওই শিক্ষকের বেতনের টাকার ভাগ নেন। শিবানি সরকারের স্বামী স্বপন সরকার বলেন, ‘আমার স্ত্রী সরকারি বিধি মোতাবেক ছুটি নেয়। এখন তিন মাসের মেডিকেল ছুটিতে আছে।’ এর বেশি কিছু বলতে চাননি তিনি।
প্রধান শিক্ষক আয়ুবুর রহমান বলেন, ‘ওই শিক্ষিকা অসুস্থ থাকায় স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। সুস্থ থাকলে নিয়মিত স্কুলে আসেন।’ বেতনের অংশ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি একেএম আবদুস সাত্তার মোল্যার মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমি দুই দিন আগে জানতে পেরেছি। সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’