টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের আটিয়া মামুদপুর এলাকায় একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে অন্তত ১১ গ্রামের মানুষ। ওই এলাকার ফুলবাইরা ঘাট এলাকায় এলংজানি নদী পারাপারে নৌকাই একমাত্র ভরসা। সেখানে একটি সেতু নির্মাণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের আটিয়া মামুদপুর এলাকা দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশ্বরীর শাখা এলংজানি নদী। এই নদী আনাইতারা ইউনিয়নকে দুভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর দুই পাশের অন্তত ১১ গ্রামের মানুষের বছরের প্রায় আট মাসই নদী পার হতে নৌকার ওপর ভরসা করতে হয়। নৌকা করে প্রতিনিয়ত নদী পার হচ্ছে মির্জাপুর উপজেলার চরবিলসা, তেগুরি, সন্দুইতারা, শুকতা, আটিয়া মামুদপুর, দাতপাড়া, মশাজন, চৌবাড়িয়া এবং নাগরপুর উপজেলার শেওয়াইল, গাজুটিয়া ও বাগজান গ্রামের হাজার হাজার মানুষ। আটিয়া মামুদপুর গ্রামে রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনাইতারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস। ফলে এই ১১ গ্রামের মানুষকে বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন মামুদপুর গ্রাম হয়ে চলাচল করতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলতে পারলেও বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয় ব্যাপক দুর্ভোগ। এই দুর্ভোগ লাঘবে খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে আর খোঁজ নেয় না।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার হতে গিয়ে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সময় নষ্টের পাশাপাশি লাগছে বাড়তি টাকা। খেয়া নৌকা একবার পার হতে দুই টাকা, বাইসাইকেলসহ পাঁচ টাকা এবং মোটরসাইকেলসহ পার হলে লাগে দশ টাকা। এ ছাড়া খেয়াঘাটের নিকটবর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ বার্ষিক ধান এবং চাল দিয়েও খেয়া পারাপার হয়ে থাকে।
শুকতা গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আলামিন মিয়া বলেন, ‘নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে মামুদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। কিন্তু এই দাবি শুধু দাবিই থেকে যাচ্ছে। কেউ এগিয়ে আসছে না। নির্বাচনের সময় অনেকই কথা দেয়, আর পরে কেউ খোঁজ নেয় না।’
আনাইতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল ময়নাল বলেন, ‘আটিয়া মামুদপুর খেয়াঘাটে একটি সেতু নির্মাণ হলে ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে আমি সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করি।’
মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘আটিয়া মামুদপুর খেয়াঘাটের মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। ওই স্থানে একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া আছে। অনুমোদন হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।’