গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ ১০ মাসে ক্ষতি ৯০০ কোটি

গ্যাস সংকটে গত ১০ মাস ধরে সার উৎপাদন বন্ধ আছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল)। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত এই কারখানাটি দেশের বৃহত্তম সার উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এর আগেও যান্ত্রিক ত্রুটি, দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে এ কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ ছিল।

সিইউএফএল সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ নভেম্বর কারখানার অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের রিফরমার পাইপলাইন ফেটে আগুন ধরে গেলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পরে মেরামত কাজ শেষে চলতি বছরের ২২ মার্চ বিকেলে আবার উৎপাদন শুরু হয়। কিন্তু পাঁচ দিনের মাথায় ২৭ মার্চ দুপুরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কারখানার ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে।

এরপর ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারখানার ‘কনভার্টার ক্যাটালিস্ট’ পরিবর্তন করা হয়। যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে এ কাজ চলে গত ৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত। তবে কাজটি সফলভাবে শেষ হলেও কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় এর কার্যকারিতা জানা যায়নি। এটি পরীক্ষামূলক ট্রায়ালের জন্য গত ১০ মে দ্বিতীয় দফায় কারখানায় আসার কথা ছিল বিশেষজ্ঞ দলটির। কিন্তু কারখানাটির গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তারা আসেননি।

এদিকে গ্যাস সংকটে সিইউএফএলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছে পাশর্^বর্তী বহুজাতিক সার কারখানা কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। এতে সিইউএফএলের শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তারা বলছেন, যথাসময়ে কারখানাটি চালু করা না হলে ব্যয়বহুল এই পরিবর্তন কোনো কাজে তো আসবেই না, নতুন করে আবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

সার উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার আওতাধীন চট্টগ্রাম বিভাগের আট জেলায় আমন বোরো মৌসুমে ইউরিয়ার সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে। যদিও কারখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। তা দিয়ে চাহিদা পূরণ হবে। চাষাবাদে সারের কোনো ঘাটতি হবে না। তবে সার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতি বছর কোনো না কোনো অজুহাতে সিইউএফএল সার কারখানা বন্ধ রেখে দেশকে সার আমদানিনির্ভর করে তুলতে চাচ্ছে একটি অসাধু চক্র।

কারখানার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুরুতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম হলেও গ্যাস সংকট এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক সমস্যায় উৎপাদন ক্ষমতা কমে ১ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে। বছরে ৫ লাখ ৬১ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও গত অর্থবছরে কারখানাটিতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার টন। পাশাপাশি বছরে ৩ লাখ ১০ হাজার টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে পারে কারখানাটি।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে কারখানায় দৈনিক ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। এই কারখানায় দিনে তিন কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়। কিন্তু গত ১০ মাসে কারখানাটি চালু ছিল মাত্র পাঁচ দিন।

সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মিজানুর রহমান জানান, যান্ত্রিক সমস্যা ও গ্যাস সংকটে ১০ মাস ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় ৯০০ কোটি টাকার বেশি উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর পর গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ আছে। গ্যাস চেয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (কেজিডিসিএল) আবেদন করলেও কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারছে না। কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে তাও তারা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। তাই কারখানার উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।

এ ব্যাপারে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বিপণন-দক্ষিণ) প্রকৌশলী রইস উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি আদেশ পাওয়া গেলে সিইউএফএলে গ্যাস সরবরাহ করা হবে।