বগুড়ায় প্রায় চারশ বাড়ির দেয়ালে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করে কম্পিউটার প্রিন্ট করা কাগজ সাঁটিয়েছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময়ে। কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বিষ্ণুপুর মাঝগাড়ি পাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, হিন্দু পাড়া ও মোল্লাপাড়ার ঘটনা এটি। এতে এলাকাবাসীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
আজ রবিবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিষ্ণুপুর গ্রামের ৪ পাড়ায় বিভিন্ন বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে কম্পিউটারে প্রিন্ট করা কাগজ সাঁটানো হয়েছে। সেই কাগজগুলোতে ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে। দেয়ালে সাঁটানো কাগজগুলোতে লেখা রয়েছে—'আসসালামু আলাইকুম, ২০০০ টাকা ৬ তারিখে দিতে হবে। না হইলে ৭ তারিখ থেকে আপনাদের ছেলে-মেয়ে হারায় গেলে আমার কোনো কিছু করার থাকবে না। আমি বা আমরা কে সেটা না খুঁজে, আমি যা বলছি সেটা করার চেষ্টা করেন তাহলে কিছু হবে না। অল্প কিছু টাকার জন্য বাচ্চাদের বিপদে ফেলায়েন না। যদি ছেলে-মেয়ের মঙ্গল চান তাহলে, লোয়া-পুকুর সোলার লাইট এর সাথে যে বক্স থাকবে। নিজের টাকার সাথে একটা কাগজে নিজের নাম লিখে ওই বক্স-এ ফেলান আর নিজের বাচ্চাকে সুরক্ষিত করুন ধন্যবাদ। [বিঃ দ্রঃ আমার এই কাগজ আপনি পড়ছেন তাহলে মনে করেন আপনার ছেলে/মেয়েকে তুলে আনতেও পারবো। দোয়া করে টাকাটা দিয়েন আমরা ছেলে গুলা ভালো না। ভালো থাকবেন ৬ তারিখ পর্যন্ত আল্লাহ হাফিজ।
রবিবার সকালে উঠে এসব পাড়ার মানুষ তাদের বাড়ির দেয়ালে সাঁটানো কাগজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এলাকার মেম্বার ও চেয়ারম্যানদের খবর দিলে তারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বিষয়টি দেখেন। এসব পাড়ার লোকজন জানান, সকালে উঠে দেখেন দরজার পাশে এসব কাগজ লাগানো হয়েছে। প্রতিটি কাগজে পারিবারিক অবস্থান বুঝে নানা অংকের টাকা দাবি করা হয়েছে। দিনমজুরের কাছে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা ও বিত্তবানদের কাছে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে।
মুরইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল ও স্থানীয় মেম্বার জাহিদুর রহমান বলেন, স্থানীয় লোকজন খবর দিলে বিষ্ণুপুর গ্রামে এসে বিষয়টির সত্যতা পাই। এলাকায় আতঙ্ক ছড়াতে এধরনের কাজ করেছে একটি চক্র। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয়রা এ কাজের সাথে জড়িত। নইলে একরাতে তিন থেকে চারশ বাড়িতে এই কাগজ সাঁটানো সহজ নয়। এবং প্রতিটি বাড়িতে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করা হয়েছে। তার মানে এলাকার বা আশপাশের কোনো চক্র এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়ার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, কাহালু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদ হাসানসহ পুলিশ সদস্যরা।
পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে নাজরান রউফ বলেন, গভীর রাতে কে বা কারা এমন লিফলেট বাড়ির সামনে সাঁটিয়ে দিয়েছে। যার ফলে এলাকার লোকজন ভয় পাচ্ছেন। ভয়ের কোনো কারণ নেই। আমরা ঘরে ঘরে গিয়ে কথা বলেছি। এলাকায় যে বা যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে অতিদ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমাদের বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।