কিয়েভ হবে সমরাস্ত্র শিল্পের কেন্দ্র!

পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে ‘বৃহৎ সমরাস্ত্র শিল্প কেন্দ্রে’ পরিণত করতে চান দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গত শনিবার কিয়েভ সরকার আয়োজিত বিশ্বের অস্ত্র নির্মাতা আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর একটি ফোরামে বক্তৃতা করার সময় জেলেনস্কি এসব কথা বলেন। রাশিয়ার অব্যাহত বোমা হামলা সত্ত্বেও কীভাবে ইউক্রেনে যৌথভাবে অস্ত্র উৎপাদন করা যায় সেসব নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোরামে অংশ নেওয়া আড়াই শতাধিক পশ্চিমা কোম্পানির নির্বাহীদের উদ্দেশে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন প্রতিরক্ষা ম্যারাথনের এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যখন পিছিয়ে না গিয়ে এগিয়ে যাওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিদিনই সাফল্য পাওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং আমাদের সেনাদের ব্যবহার করা প্রতিটি উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা স্থানীয়ভাবে তৈরিতে আমরা আগ্রহী। এসব অস্ত্র এখন সম্মুখ যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনকে সেরা সাফল্য এনে দিচ্ছে।’

জেলেনস্কি বলেন, আকাশ প্রতিরক্ষা ও মাইন নিষ্ক্রিয় করার সরঞ্জাম তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গোলাবারুদ উৎপাদনও আরও জোরদার করতে চায় ইউক্রেন।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। দেশটির ১৮ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করে নেয় রুশ বাহিনী। এসব ভূখণ্ড উদ্ধারে গত জুনে কিয়েভ পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। কিছু এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী অগ্রসর হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি গ্রাম পুনরুদ্ধার করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো শহর পুনরুদ্ধার করতে পারেনি তারা।

ইউক্রেন পশ্চিমা আর্থিক ও সামরিক সহায়তার ওপর খুবই নির্ভরশীল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ ধরনের শত শত কোটি ডলার সহায়তা পেয়েছে দেশটি। কিন্তু অব্যাহতভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদের চাহিদা বেড়েই চলেছে।

রয়টার্স বলছে, কিয়েভের ওই ফোরামে ৩০টি দেশের সমরাস্ত্র কোম্পানির নির্বাহীরা অংশ নেন। তাদের কয়েকজন বলেন, তারা তাদের কোম্পানিগুলোর মজুদ খালি করে দিচ্ছেন। কিন্তু ইউক্রেনের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন।

তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি পশ্চিমা কোম্পানি ইতিমধ্যে তাদের সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এসব কোম্পানির মধ্যে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তর; ড্রোন ও সাঁজোয়া যানের যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং গোলাবারুদ উৎপাদনে ইতিমধ্যে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ২০টি চুক্তি সই করেছে দেশটির সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

রয়টার্স বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন ও তুরস্কের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলাদা বৈঠকে জেলেনস্কি বলেন, এই খাতে অংশীদারত্ব হবে উভয়ের জন্য লাভজনক। আমি মনে করি, সমরাস্ত্র শিল্পের একটি বৃহৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার এটা ভালো সময় ও স্থান।