চাঁদার দাবিতে নোটিশ

আতঙ্কে গ্রামবাসী, বিদ্যালয়ে যায়নি ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী

বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামবাসীর আতঙ্ক কাটেনি। অর্থ দাবি করে দেয়ালে পোস্টার সাঁটানোর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে বিষ্ণুপুর গ্রামে গিয়ে স্থানীয়দের চোখেমুখে দেখা যায় আতঙ্ক।

এদিকে সকাল থেকে ওই গ্রামে র‍্যাব, পুলিশ, সিআইডিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পরিদর্শন করছেন এবং পুলিশের পাশাপাশি ছায়া তদন্তে নেমেছেন তারাও।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে জেলা কাহালুর উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের বিষ্ণুপুর মাঝগাড়ি পাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, হিন্দু পাড়া ও মোল্লাপাড়ার প্রায় ৪শ' বাড়ির দেয়ালে বিভিন্ন অংকের অর্থ দাবি করে কম্পিউটারের প্রিন্ট করা কাগজ সাঁটায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা।

সেই কাগজগুলোতে ২০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছে। দেয়ালে সাঁটানো কাগজগুলোতে লেখা রয়েছে, "আসসালামু আলাইকুম, ২০০০ টাকা ৬ তারিখে দিতে হবে। না হইলে ৭ তারিখ থেকে আপনাদের ছেলেমেয়ে হারায় গেলে আমার কোনো কিছু করার থাকবে না। আমি বা আমরা কে সেটা না খুঁজে, আমি যা বলছি সেটা করার চেষ্টা করেন। তাহলে কিছু হবে না। অল্প কিছু টাকার জন্য বাচ্চাদের বিপদে ফেলায়েন না। যদি ছেলেমেয়ের মঙ্গল চান তাহলে, লোয়া-পুকুর সোলার লাইট এর সাথে যে বক্স থাকবে। নিজের টাকার সাথে একটা কাগজে নিজের নাম লিখে ওই বক্স-এ ফেলান আর নিজের বাচ্চাকে সুরক্ষিত করুন ধন্যবাদ। [বিঃ দ্রঃ আমার এই কাগজ আপনি পড়ছেন তাহলে মনে করেন আপনার ছেলে/মেয়েকে তুলে আনতেও পারবো। দোয়া করে টাকাটা দিয়েন আমরা ছেলেগুলা ভালো না। ভালো থাকবেন ৬ তারিখ পর্যন্ত আল্লাহ হাফিজ। রবিবার সকালে উঠে এসব পাড়ার মানুষ তাদের বাড়ির দেয়ালে সাঁটানো কাগজ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

এলাকাবাসী জানান, ওই চার পাড়ার প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন কলেজে পড়াশোনা করেন। সোমবার প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে যায়নি। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানকে বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন এবং ছুটির পরে নিয়ে আসছেন। আতঙ্ক কোনভাবেই কমছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে মুরইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, স্থানীয় লোকজন খবর দিলে বিষ্ণুপুর গ্রামে এসে বিষয়টির সত্যতা পাই। এলাকায় আতঙ্ক ছাড়াতে এ ধরনের কাজ করেছে একটি চক্র। ধারণা করা হচ্ছে, স্থানীয়রা এ কাজের সাথে জড়িত। নইলে এক রাতে ৩০০ থেকে ৪০০ বাড়িতে এই কাগজ সাঁটানো সহজ নয়। আমরাও চেষ্টা করছি কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শনাক্ত করার।

সোমবার দুপুর বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার বিষ্ণুপুর গ্রামের পাড়াগুলো পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন ও তাদের আতঙ্কিত না হবার পরামর্শ দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এটি যে বা যারা করেছে তাদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমান দেশের পরিস্থিতি, নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। অতি দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করে আইনের আওতা আনা সম্ভব হবে। সেই সাথে এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের অনুরোধ জানান।