নাঙ্গলকোটে গরুর ক্ষুরারোগে দিশেহারা কৃষক

অর্ধলক্ষাধিক গরু আক্রান্ত মৃত্যু দুই শতাধিক

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মহামারী আকার ধারণ করেছে গরুর ক্ষুরারোগ। গত দুই মাসে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকার কৃষকরা।

কৃষক ও খামারিরা জানিয়েছেন, একটি পৌরসভা ও ১৬ ইউনিয়নে ছোট-বড় ৩৬৫টি খামার রয়েছে। এসব খামারে গরু আছে প্রায় ৪০ হাজার। খামার ও কৃষকের গোয়াল মিলে প্রায় ৫০ হাজার গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শে অনুসারে চিকিৎসা দেওয়ার পরেও রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে জানা যায়, উপজেলায় দুধের জন্য গাভি ও যাঁড় মোটাতাজাকরণসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির খামারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ খামার রেজিস্ট্রেশনের বাইরে। এ ছাড়া প্রায় সব কৃষকের বাড়িতেই গরু রয়েছে। এর মধ্যে সিংহভাগ গরুই কম-বেশি ক্ষুরারোগে আক্রান্ত।

উপজেলার মৌকরা ইউপির গোমকোটের আবদুস ছাত্তার জানান, তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গাভি কিনেছেন। কয়েক দিন ধরে গাভি ও বাছুরের ক্ষুরারোগ দেখা দেয়। বেশ কয়েক ধরনের ওষুধ খাওয়ানোর পরও কোনো সুফল পাচ্ছেন না তিনি। এর আগে আরও চারটি গরুর ক্ষুরারোগ হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেড় হাজার টাকার ওষুধ খাইয়েও কোনো কাজ হয়নি। পরে হোমিওপ্যাথি ও বনাজি ওষুধ খাওয়ালে এ রোগ ভালো হয়।

চান্দগড়া গ্রামের ছালেহ আহম্মেদ মেম্বার বলেন, ‘খামারে ২৫টি গরু ছিল। সব গরুই ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেক ওষুধ খাওয়াই। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমরা এ রোগের কোনো ভ্যাকসিন পাইনি। ভ্যাকসিনের জন্য গেলে ডাক্তার বলেন ভ্যাকসিন নাই, আমাদের ফিরিয়ে দেন। আমার ছয়টি গরু এ রোগে মারা গেছে। প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে শুধু পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের সহায়তা পাইনি।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার প্রায় সব খামার ও কৃষকের বাড়ির গরুর এই রোগ দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে এই রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। গত দুমাসে উপজেলায় অন্তত দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রায়কোট উত্তর ইউপির রায়কোট গ্রামের মজিবুল হকের একটি, আব্দুল খালেকের একটি, রেজু হাজারীর দুইটি, ইয়াছিন মোল্লার দুইটি, ছালে আহম্মেদের একটি, কাদের মিয়ার একটি, নান্দেরশ্বর গ্রামের প্রবাসী আবুল কাশেম ভূঁইয়ার একটি, চান্দগড়া গ্রামের ছালে আহম্মেদ মেম্বারের ছয়টি, গোমকোট গ্রামের ইয়াছিনের একটি, আর্দ্রা গ্রামের সাইফুল ইসলামের দুইটি, পেরিয়া গ্রামের মাহবুবুর রহমানের দুইটি ও পৌর সদরের সোহেল মিয়ার দুটিসহ দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয় এ ক্ষুরারোগে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, এটি ভাইরাসজনিত রোগ। এই রোগে গরু মারা যাওয়ার সঠিক পরিসংখ্যান দিতে না পারলেও খামারি ও কৃষকের হাজার হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে দাবি করেন, আক্রান্ত গরুগুলোকে তার দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অনেক গরু সুস্থ হয়ে গেছে। মাঠপর্যায়ে ডাক্তাররা কাজ করছেন। বিভিন্ন ইউনিয়নে ক্যাম্প করে ভ্যাকসিন দিচ্ছেন।