‘প্রতিদিন কয়েকটি ইজিবাইক উল্টে যায়, ট্রাক আটকে যায়। কোনো গাড়ি আটকে গেলে দীর্ঘ সময় গাড়ি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আগে দিনে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা উপার্জন করতাম, এখন রাস্তার এমন দশার কারণে মাত্র ৫০০ টাকা নিয়েই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। গাড়ির অবস্থাও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।’ ক্ষোভ জানিয়ে কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের সখীপুর-সাঘরদীঘি সড়কের ইজিবাইকচালক আবদুল আজিজ। শুধু তিনি নন, এই সড়কে চলাচল করা সব চালকেরই এমন দশা।
টাঙ্গাইলের সখীপুর-সাঘরদীঘি সড়কের কচুয়া বাজারের উত্তর পাশের অংশ এবং বড়চওনা বাজারের দক্ষিণ অংশের বেহাল অবস্থা যেন ওই সড়কে চলাচলকারীদের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা একরকম ডোবায় পরিণত হয়। কাদায় মাখামাখিতে যানবাহন চলাচল অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ঝুঁকি নিয়ে যারা চলাচল করেন, তাদের মধ্যে অনেককেই যানবাহন নিয়ে কাদায় আটকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। প্রতিদিন অন্তত ১০ থেকে ১২টি গাড়ি রাস্তার গর্ত ও খানাখন্দে আটকে যাচ্ছে। একটি গাড়ি আটকে গেলে ওই রাস্তায় চলাচল করা প্রায় সব গাড়িকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে রাস্তার এই বেহাল দশা থাকলেও দেখার কেউ নেই। চালক, যাত্রী, পথচারী সবাইকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ সড়কে।
জানা যায়, ময়মনসিংহ, মুক্তাগাছা, ঘাটাইল, ফুলবাড়িয়া, গারোবাজার, সাগরদীঘি, কুতুবপুর, বড়চওনাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার বাস-ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, ইজিবাইক, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ প্রতিদিন ছোট-বড় অন্তত কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে এই সড়কে। কয়েক জেলার সংযোগ সড়ক এটি। ঘাটাইল এবং সখীপুর উত্তরের মানুষের শহরাঞ্চল ও ঢাকায় যাওয়ার রাস্তাও এটি। দেশের অন্যতম বৃহৎ কলার হাট কুতুবপুরের কলাভর্তি ট্রাকগুলো টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় চলাচল করে এ রাস্তা দিয়েই।
সম্প্রতি সরেজমিনে কচুয়া বাজার এলাকায় দেখা যায়, বাঁশবোঝাই একটি ট্রাক রাস্তায় আটকে আছে। এর ফলে অসংখ্য গাড়িও আটকা পড়েছে। রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই এই রাস্তা কাদায় ভরে যায়। নিম্নমানের সংস্কারকাজের ফলে বছরের প্রায় অধিকাংশ সময় রাস্তার এই অংশ এমনই থাকে। খানাখন্দে ভরা রাস্তার পাশেই রয়েছে কচুয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয় এবং বড়চওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রাস্তার বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও। এ ছাড়া যানজটে পড়ে থাকা গাড়ির অব্যাহত হর্নে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘেœ ক্লাসও করতে পারছে না।
ট্রাকচালক রহিম মিয়া বলেন, ‘এত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা কতদিন হয়ে গেল খারাপ হয়ে আছে। কেউ সংস্কার করছে না। ভোটের সময় আসছে, গণসংযোগ হচ্ছে। কিন্তু রাস্তা ঠিক করার দিকে কারও নজর নেই।’
টাঙ্গাইলের সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ওই স্থানটি বারবার দেবে যাচ্ছে। শিগগিরই যান চলাচলের জন্য স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে সড়কের বড়চওনা বাজার এলাকার দুর্ভোগের স্থানটিও সংস্কার করা হবে।’
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম বলেন, ‘সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’