ঝালকাঠির রাজাপুরে সুদমুক্ত মুনাফার কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে আল-হেমায়েত মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে গ্রাহকরা উপজেলার গালুয়া পাকাপোল বাজার এলাকায় সমিতিটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ অন্য কর্মচারীরা অফিসে তালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ হারিয়ে দিশেহারা সমিতিটির গ্রাহক চার শতাধিক মানুষ।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা বলেন, ১০ বছর আগে মাওলানা রফিকুল ইসলাম আকন, মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও মাওলানা হেলাল উদ্দিন মিলে গড়ে তোলেন আল-হেমায়েত মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামের ওই প্রতিষ্ঠান। তারা ‘সুদমুক্ত ব্যবসা’র কথা বলে গ্রাহকদের বেশি লাভ দিয়ে এলাকার মানুষকে আকৃষ্ট করে তোলেন। এরপর উপজেলার চার শতাধিক মানুষের কাছ থেকে ব্যবসার লাভের অংশ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু হঠাৎ সপ্তাহখানেক ধরে খোঁজ মিলছে না প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ কর্তৃপক্ষের।
আল হেমায়েত মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড গালুয়া কার্যালয়ের সামনে সঞ্চয়পত্র হাতে জড়ো হওয়া রেক্সোনা বেগম, সোহরাব হোসেন, লাইলি বেগম, নাজমুল হাসানসহ প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রাখা অর্ধশতাধিক গ্রাহক বলেন, আমাদের কারও এক লাখ, কারও দুই লাখ কারও পাঁচ লাখ জমা আছে। সম্বল হারিয়ে এখন চোখে অন্ধকার দেখছি।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি হেদায়েত উল্লাহ আনছারী বলেন, আমি নামমাত্র ভাইস চেয়ারম্যান, টাকা-পয়সার লেনদেন ও জমিজমা ক্রয়সহ সব বিষয় মাওলানা রফিকুল ইসলাম নিয়ন্ত্রণ করতেন। রাজাপুর থানার ওসি পুলক চন্দ্র রায় বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, দিনাজপুরের পার্বতীপুরে এক মাসে দুটি সমবায় সমিতির তিনজন কর্মকর্তা ৭৫০ গ্রাহকের সঞ্চয়ের ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর পার্বতীপুর শহরের গুলশান নগর মহল্লা থেকে ২৫০ গ্রাহকের জমানো ১০ লাখ টাকা নিয়ে সততা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির পরিচালক আবদুর রহিম পালিয়ে গেছেন।
এ ছাড়া গত ১৭ সেপ্টেম্বর পার্বতীপুরের উপকণ্ঠে হলদিবাড়ী রেল কলোনি বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি নাজমূল হুদা খান ফিরোজ (৫০) গা ঢাকা দিয়েছেন ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা নিয়ে।
এ ঘটনায় ১ অক্টোবর সমিতির পরিচালক তহিদুল ইসলাম (৫০) পার্বতীপুর রেলওয়ে থানায় অভিযোগ করেন।
একটি সমিতির গ্রাহক গুলশানারা বেগম বলেন, পরিবারের তিনজন ২৫ হাজার টাকা দিয়ে সদস্য হয়েছি। আমার সংসারে এখন অশান্তি শুরু হয়েছে। অন্য সমিতির ফাতেমা বেগম প্রশ্ন করেন, আমার অনেক কষ্টের ২১ হাজার টাকা সঞ্চয়ের এখন কী হবে?
হলদিবাড়ী রেল কলোনি বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান রানা বলেন, সমিতির সবকিছু সভাপতি নিজেই করতেন। মাসিক সভায় সই-স্বাক্ষরও নিয়ে রাখতেন।
পার্বতীপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুর রব প্রামাণিক বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি এ কে এম নুরল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় সমিতির পরিচালক থানায় অভিযোগ করেছেন। কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।