নাটোরের সিংড়ায় গত ১৮ দিনের ব্যবধানে পানিতে ডুবে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এদের সবার বয়স ৩ বছর থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ থেকে শুরু করে চলতি মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত ১৮ দিনের ব্যবধানে এসব প্রাণহানি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে উপজেলার শাঐল বুদারবাজার গ্রামে খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় দুই শিশু সাদিয়া (৭) ও খাদিজা (৬)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুপাতো বোন। সাদিয়া ওই গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে ও খাদিজা ইমরান আলীর মেয়ে। পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর বিকেলে দুজনের মরদেহ পুকুরে ভেসে উঠলে তাদের লাশ উদ্ধার করে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে নদীতে গোসল করতে যায় কাওছার আহমেদ (১৪) নামের এক শিশু। পরদিন সকালে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের রানীনগর ব্রিজের সøুইসগেট এলাকা থেকে সৌতিজালে জড়ানো তার মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। কাওছার রানীনগর উজানপাড়ার হাবিবুর রহমান হবির ছেলে ও তেলিগ্রাম দাখিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।
এদিকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে হাতিয়ান্দহ ইউনিয়নের উলুপুর গ্রামের বারণই নদীতে গোসল করতে নেমে শিশু ফাতেমা (৫) ও আব্দুস সবুর (৯) নিখোঁজ হয়। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। সবুর একই গ্রামের সাহাদ ইসলামের ছেলে ও ফাতেমা সাইফুল ইসলামের মেয়ে। নিখোঁজ আব্দুস সবুরের মরদেহ চার ঘণ্টা পর বিকেলে উদ্ধার করে ডুবুরি দল। পরদিন সকালে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ফাতেমার মরদেহ ভেসে ওঠে।
গত ১ অক্টোবর শালমারা গ্রামে বাড়ির পাশের ডোবায় পড়ে মারা যায় ফাহিম (৩) নামের এক শিশু। ফাহিম রুবেল সরদারের ছেলে।
সর্বশেষ, গত ৩ অক্টোবর সকালে উপজেলার ছাতারদিঘী ইউনিয়নের কুমিড়া গ্রামে তামিম (১৪) নামের এক শিশু নিখোঁজ হয়। পরে রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে ভেসে ওঠে তার লাশ। তামিম ওই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে।
১৮ দিনের ব্যবধানে সাত শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে নাটোর আদালতের আইনজীবী নাজমুল হক বলেন, পারিবারিক সচেতনতার অভাবে পানিতে ডুবে শিশুদের এমন অকাল মৃত্যু হচ্ছে। শিশুদের সাঁতার শেখাতে অভিভাবকদের উদ্যোগী হতে হবে।
সিংড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এমরান আলী রানা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের চোখে চোখে রাখতে হবে। সিংড়ায় শিশুদের সাঁতার শেখানোর জন্য সুইমিংপুল প্রয়োজন।