সারের তীব্র সংকটে হাতিয়ায় ব্যাহত আমন চাষাবাদ

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ইউরিয়া সারের তীব্র সংকট চলছে। হাতিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সারের জন্য চলছে কৃষকদের হাহাকার। কৃষকরা ডিলারদের দোকানে গিয়ে সার না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। উপজেলায় সারের বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এদিকে, গত বুধবার অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে এক হাজার বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে একটি ট্রলার চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়া আসার পথে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সন্দ্বীপের দক্ষিণে একটি চরে আটকা পড়ায় ওই ট্রলারের সার ও পণ্য লুট হয়। এতে হাতিয়ায় আরও প্রকট হয় সারের সংকট। সরেজমিনে কৃষক, সার ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি, সার না পেয়ে কৃষকরা তমরদ্দি বাজারের সার ডিলার মোছলেহ উদ্দিন নিজামের দোকানের সামনে বিক্ষোভ করে। এ ছাড়া, সার না পাওয়ায় হাতিয়ার অন্যান্য এলাকার কৃষকদের মধ্যেও অসন্তোষের খবর পাওয়া গেছে।

তমরদ্দি ইউনিয়নের বেকের বাজার এলাকার কৃষক ছেরাজল হক বলেন, ‘আমার একশ একর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। সারের অভাবে ধানের ফলন ভালো না হওয়ার শঙ্কা দেখছি।’

হাতিয়ার সারের ডিলার শাহাব উদ্দিন রাশেদ বলেন, বছরের শুরুতে হাতিয়ার জন্য সাত হাজার তিনশ টন ইউরিয়ার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পাওয়া যায় চার হাজার তিনশ টন। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় প্রতি বছরের মতো এ বছরও সারের সংকট দেখা দিয়েছে।

ডিলার মোছলেহ উদ্দিন নিজাম বলেন, সময়মতো সার দিতে না পারায় কৃষকদের গালমন্দ শুনতে হচ্ছে।

হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাছেদ সবুজ বলেন, হাতিয়ায় দ্রুত সারের বাড়তি বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করছি।

নোয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) শহীদুল হক গতকাল শনিবার দুপুরে বলেন, ইতিমধ্যে হাতিয়ার জন্য ৪১৪ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। তবে এ সার হাতিয়ায় পৌঁছাতে দেরি হবে।