ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই দুই চিকিৎসক হলেন, গাইনি বিভাগের শৈল্য চিকিৎসক জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. শবনম সুলতানা ও অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বাবর তালুকদার। কর্মস্থলে তাদের অনুপস্থিতি ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার বিশেষত সিজারিয়ান কার্যক্রম কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।
জানা যায়, ডা. শবনম সুলতানা ও ডা. বাবর তালুকদার নিয়মিত অফিস করেন না। সপ্তাহে ছয় দিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে তাদের অফিস করার কথা থাকলেও তারা সপ্তাহে তিন দিন কর্মস্থলে আসেন। ডাক্তার শবনম সপ্তাহে তিন দিন শনি, সোম ও বুধবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে প্রতিদিন একটি করে অপারেশন করে চলে যান। আর অপারেশন থাকলে ডা. বাবর তালুকদারও আসেন। গর্ভবতী মহিলাদের সিজার করা ছাড়া নিয়মিত আউটডোরে মহিলা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা রয়েছে ডা. শবনমের। কিন্তু তিনি তার সরকারি দপ্তরে কখনোই বসেন না। ফলে সব সময় তার কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়। এতে গর্ভবতী ও সাধারণ মহিলা রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. বাবর তালুকদারেরও নিজ সরকারি দপ্তরে নিয়মিত বসার কথা থাকলেও তিনি বসেন না। বহির্বিভাগে তিনি কোনো রোগী দেখেন না। অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরে শবনম সুলতানার পরিবারের নিজস্ব ক্লিনিক রয়েছে। সেখানেই তিনি ব্যস্ত সময় কাটান। অপরদিকে ডা. বাবর তালুকদার ঢাকা ও ফরিদপুরে অবস্থান করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা দেন।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, প্রতিদিন অনেক গর্ভবতী নারী সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু সবার ভাগ্যে বিনামূল্যে হাসপাতালের চিকিৎসা সুবিধা জোটেনা। নিয়মিত ওটির ডাক্তার থাকে না। আবার যেদিন ডাক্তার আসেন সেদিন একটির বেশি সিজার হয় না।
ডা. শবনমের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলেই তিনি কোনো উত্তর না দিয়ে সংযোগ কেটে দেন।
ডা. বাবর তালুকদার বলেন, ‘আমি অজ্ঞান বিষয়ের চিকিৎসক। এর বাইরে আমার কোনো কাজ নেই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এম এ নাহিদ আল রাকিব বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমার নিজেরই খুব কম দেখা-সাক্ষাৎ হয়। তারা কখন আসেন, কখন যান, সেটা বায়োমেট্রিক হাজিরা যাচাই করলেই বোঝা যাবে। তারা নিজেরাই নিজেদের বেতন তোলার ক্ষমতা রাখেন। আবার নিজেদের ইচ্ছে মতোই অফিস করেন। কার নির্দেশনা কে মানে!’
ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমি এই দুজন ডাক্তারের বিষয়ে অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’