অল্পের জন্য হাতছাড়া ছিনিয়ে নেওয়া সেই জঙ্গি

নাগাল পেয়েও অল্পের জন্য হাতছাড়া হয়ে গেছে ঢাকার আদালতপাড়া থেকে ছিনিয়ে নেওয়া পলাতক এক জঙ্গি। সম্প্রতি এক জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের দুদিন আগে সেখান থেকে পালিয়ে যায় ওই জঙ্গি। অবশ্য পরে ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের আমিরসহ পাঁচজন ধরা পড়েছে। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাজলা এলাকা থেকে দুটি পিস্তল ও গুলিসহ তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই পাঁচজনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলো আনসার আল ইসলামের নায়েবে আমির সাখাওয়াতুল কবির ওরফে আনিস ওরফে রফিক (৪৫), সংগঠনটির আশকারী বিভাগের ঢাকা অঞ্চলের অধিনায়ক ইহসানূর রহমান ওরফে মুরাদ ওরফে সাইফ (২৬) এবং সদস্য বখতিয়ার রহমান ওরফে নাজমুল (৩০), ইউসুফ আলী সরকার (৩১) ও জাহেদুল ইসলাম ওরফে আশ্রাফ (৩৫)। গতকাল রবিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সিটিটিসির প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে দেশে জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে আনসার আল ইসলামই সাধারণত বেশি সক্রিয়। সংগঠনটির আমিরসহ নেতৃত্বপর্যায়ের পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছিল তা আমরা অনেকটাই নিউট্রাল করতে সক্ষম হয়েছি। গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছরের ২০ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গির সন্ধানে আমরা কাজ করছি। এর মধ্যে সম্প্রতি একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে জানতে পারি সেখান থেকে তাদের একজন মাত্র দুদিন আগে চলে গেছে। ওই বাসায় সে এক মাসেরও বেশি সময় অবস্থান করেছিল। তবে সে পালিয়ে গেলেও পরে গ্রেপ্তার পাঁচজনের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পেয়েছি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির প্রধান বলেন, ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সহায়তায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা নতুন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার প্রধান শামিন মাহফুজ ও নেতৃত্বপর্যায়ের সদস্যসহ ৯৫ ভাগেরও বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা মনে করি শামিন মাহফুজকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে শারক্বীয়ার যবনিকা টানতে পেরেছি।’ কেএনএফ ও তাদের নেতৃত্বপর্যায়ের সদস্যদের নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, আনসার আল ইসলামের গ্রেপ্তার নায়েবে আমির সাখাওয়াতুল কবির ২০০২ সালে তার ভগ্নিপতি এজাজ কারগিলের নেতৃত্বে ‘জামায়াতুল মুসলিমীন’ নামে পরিচিত একটি সংগঠনে যোগ দিয়ে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে তেহজিব করিম, শামীম, তারিক সোহেল এবং শামীম মাহফুজসহ তৎকালীন সময়ে দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। পরে ২০১০ সালে এজাজ কারগিল আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশের প্রথম আমির হিসেবে নেতৃত্ব গ্রহণ করে। ২০১৪ সালে এজাজ কারগিল পাকিস্তানে স্থানান্তরিত হয় এবং একই বছরে কবির তার মায়ের সঙ্গে পাকিস্তান চলে যায়। ২০১৪ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে এজাজ কারগিল নিহত হলে কবির দেশে ফিরে আসে এবং আনসার আল ইসলামের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে।