গাজায় হামলার ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন বিবিসি সাংবাদিক

শনিবার থেকেই চরম অশান্ত ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ অঞ্চল গাজা। হামাসের হামলার জবাবে ভয়াবহ বিমান ও কামান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপছে গাজা। অনেক এলাকাজুড়ে জ্বলছে আগুন। ২৩ লাখ বাসিন্দার জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির সাংবাদিক রুশদী আবু আলউফ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অবরুদ্ধ গাজার ভয়াবহতা তুলে ধরেছেন তিনি।

তিনি জানান, গাজা শহরের যে এলাকায় তিনি ছিলেন তার বেশীরভাগ ভবনই ধ্বংস হয়ে গেছে। বৃষ্টির মত রকেট হামলা হচ্ছে সেখানে। বিশেষ করে রাতারাতি ব্যাপক হারে বেড়ে যায় বিমান হামলার তীব্রতা।

তার বর্ণনায়, গাজার চারপাশে এখন বিস্ফোরণের ভয়ংকর আওয়াজ, থেমে থেমে কেঁপে উঠছে গাজার মাটি। আকাশে একটু পর পর বিস্ফোরণ এবং রাতভর ধোঁয়া, অগ্নিশিখা ও বিস্ফোরণের আওয়াজ গাজার বর্তমান পরিস্থিতি।

তিনি জানান, প্রায় ২০টি পরিবারের সাথে একটি আবাসিক ভবনে থাকেন তিনি। বিস্ফোরণের ভয়াবহ আওয়াজ ও মারাত্নক পরিস্থিতিতে আতঙ্কে সারারাত চিৎকার করছিল বাচ্চারা। কারোর এক মুহূর্ত ঘুম হয়নি।

২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাত পার করেছেন বলে জানান তিনি।

সকালে যখন বাইরে বের হন রুশদী, তখন পুরো মানচিত্রই যেনো বদলে গেছে এলাকাটির। যত্রতত্র ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। রাস্তাঘাটে ভবন ধসে পড়েছে এবং পুরো এলাকাটি যেন সমতল হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন, বহু আবাসিক অবকাঠামো, একটি মসজিদ ও একটি থানা ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে তার কিছু চেনা ভবন ধ্বংসের মাত্রা দেখে যেনো অচেনা লাগছে বলে বর্ণনা করেন রুশদী।

রুশদী বলছেন, মিশরের সাথে গাজার সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দিনে মাত্র ৪০০ জনকে প্রবেশ এবং বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এটি খুব দীর্ঘ অপেক্ষা।

তবে যুদ্ধ এবং অবরোধের পর থেকে গাজার মানুষের জন্য একমাত্র বিকল্প এখন জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুল। যদিও জাতিসংঘ জানিয়েছে যে এই অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ধারণক্ষমতার ৯০ শতাংশ ইতিমধ্যে পূরণ হয়ে গিয়েছে।

তাই গাজা থেকে পালানোটাও যেনো খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ কেউ তাদের বাড়ির বেসমেন্টে লুকালেও ভবন ধসে তাদের উপর পড়লে তারা নিচে আটকা পড়ে যাবে। ইতিমধ্যে গত রাতে প্রায় ৩০টি পরিবার একটি বেসমেন্টে আটকা পড়ায় স্থানীয় মিডিয়াকে ফোন করে সাহায্যের আবেদন জানায় বাসিন্দারা।

এদিকে বিবিসিতে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে উঠে এসেছে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলার ভয়াবহতা।

বিবিসির প্রতিবেদক রুশদি আবু আলউফ গাজা থেকে সরাসরি সম্প্রচার করছিলেন। এমন সময় পেছনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেন তিনি। কিছু সময়ের জন্য যেনো নির্বাক হয়ে যান তিনি। পরবর্তীতে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি নিরাপদ এবং অক্ষত আছেন।