উপকূলীয় বাগেরহাটের বেশকিছু এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির উৎস না থাকায় সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। গভীর নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততা ও আর্সেনিকের কারণে বাগেরহাটে সুপেয় পানির সংকট দিনদিন তা আরও প্রকট হচ্ছে। এসব এলাকায় গভীর নলকূপে সুপেয় পানির উৎস না থাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহারে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে ২০ হাজার ট্যাংক বিতরণ করেছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ সুপেয় পানির সুবিধা পাচ্ছে। আগামী অর্থ বছরে জেলায় আরও ৩৫ হাজার ট্যাংক বিতরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই ট্যাংকে তিন হাজার লিটার বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যাবে। সুপেয় পানির জন্য সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। সরকারের এই উদ্যোগে খুশি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও জনপ্রতিনিধিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে ১৬ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা, রামপাল উপজেলাতে গভীর নলকূপ একেবারেই অকার্যকর। বাগেরহাট সদর উপজেলার বেশকিছু এলাকায়ও গভীর নলকূপ বসে না। তাই এসব এলাকার সাধারণ মানুষকে সুপেয় পানির জন্য পিএসএফ (পণ্ড স্যান্ড ফিল্টার) অথবা বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। যাদের আর্থিক সচ্ছলতা আছে তারা ট্যাংকে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখে। আর দরিদ্র মানুষকে অনেক দূর থেকে হেঁটে পিএসএফের পানি সংগ্রহ করে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নওয়াপাড়া গ্রামে তিন হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। এই গ্রাম চারদিকে নদীবেষ্টিত। চারদিকে লবণ পানিতে থইথই করছে। এই গ্রামের মানুষকে মাইলের পর মাইল দূর থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে প্রতিদিনের কাজ মেটাতে হয়। সম্প্রতি সরকার এই এলাকায় পানির ট্যাংক সরবরাহ করায় সুপেয় পানির সংকট কিছুটা মিটেছে। অনেক দূর থেকে পানি এনে কাজ সব কাজ চলত।
গ্রামবাসী সরোয়ার হোসেন, জামাল মিঞা ও রহিমা বেগম বলেন, এই এলাকার পানিতে লবণ, গভীর নলকূপ বসে না। সরকারিভাবে ট্যাংক পাওয়ায় তাতে আমরা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছি। আমাদের সুপেয় পানির যে সংকট ছিল তা থেকে মুক্তি পেয়েছি। এই পানি দিয়ে এখন রান্না ও খাওয়ার কাজ ভালোভাবে চলছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহিদ খন্দকার বলেন, সুপেয় পানির সংকটে এই এলাকার মানুষ জর্জরিত। গভীর নলকূপ এখানে অকার্যকর। দু-একটি বসানো গেলেও তা আর্সেনিকযুক্ত। অনেক দূর থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহ করে চাহিদা মেটাতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। সরকার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম প্রকল্প হাতে নেওয়ায় দারুণ উপকার হয়েছে। তবে সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছে তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত কুমার মল্লিক এই প্রতিবেদককে বলেন, এখানকার বেশিরভাগ উপজেলাতে ভূগর্ভস্থ পানিতে ক্লোরাইড ও আর্সেনিকের মাত্রা অনেক বেশি হওয়ায় গভীর নলকূপ অকার্যকর। জনস্বাস্থ্য বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলাগুলোতে হাউজহোল্ড ভিত্তিক রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং সিস্টেম কাজ চলমান। জেলা পরিষদের মালিকানাধীন পুকুরগুলোকে পুনঃখননের মাধ্যমে সোলার পিএসএফ (পণ্ড স্যান্ড ফিল্টার) স্থাপন করা হচ্ছে। কমিউনিটি ভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মিনিপাইপ ওয়াটার সাপ্লাই স্কিমের মাধ্যমে উপকূলীয় উপজেলাতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।