পুলিশের তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ স্বজনদের

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী শিখা হালদার হত্যার জট পাঁচ মাসেও খুলতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় প্রথমে মামলা নেয়নি পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে মামলা নিলেও তদন্তে গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ স্বজনদের। পাঁচ মাসেও তদন্ত শেষ করতে না পারায় স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা। আসামিপক্ষ প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থাকায় সঠিক বিচার পাওয়া নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন শিখার স্বজনরা।

জানা যায়, নিহত শিখা হালদার উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর এলাকায় সৌদি আরব প্রবাসী রতন হালদারে স্ত্রী। গত ৯ জুন বসতঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় করা মামলার পর থেকেই পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। পুলিশ নিহতের ময়নাতদন্ত এবং ভিসেরা প্রতিবেদন দিতেও গড়িমসি করছে বলে জানান তারা।

নিহতের মা সারথী রানী হালদার বলেন, ‘লাশ উদ্ধারের ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেছি, পুলিশ মামলা নেয়নি। থানায় মামলা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে আমি আদালতে মামলা করি। মামলা করার পর থেকেই বিবাদী পক্ষ আমার ওপর বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমরা গরিব মানুষ। আমার মেয়েকে শ^শুর বাড়ির লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে চাচ্ছে। আসামি দীলিপ হালদার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার। প্রভাবশালী ব্যক্তি তাই সঠিক বিচার পাওয়া নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি। পুলিশ আমাদের বলছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বা ভিসেরা প্রতিবেদন তাদের কাছে আছে, কিন্তু আমাদের কোনো তথ্য জানাচ্ছেন না বলে আদালতে রিপোর্ট পাঠালে আপনারা আদালতে যোগাযোগ করবেন। অযথা আমাকে বিরক্ত করবেন না। আমরা যেহেতু এগুলো বুঝি না, তাই তাদের ওপরেই নির্ভর করে আছি।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক তানভীর শেখ বলেন, ‘মামলার তদন্ত কাজ চলছে। ময়নাতদন্ত বা ভিসেরা প্রতিবেদনও হাতে পেয়েছি। খুব শিগগিরই তা আদালতে জমা দেওয়া হবে।’

সহকারী পুলিশ সুপার (দোহার সার্কেল) মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।’