কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ‘টেন্ডার ছাড়াই’ উপজেলা পরিষদের গাছ কেটে এলাকা ছায়াশূন্য করে দিয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান মেহেবুব। গত শুক্রবার ও গতকাল শনিবার উপজেলার পরিষদের ভেতরে শহীদ মিনারের সামনের বিশাল আকৃতির ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুবের দাবি, টেন্ডারের মাধ্যমে গাছ কাটা হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা বন কর্মকর্তা খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলছেন এখনো টেন্ডার হয়নি। উপজেলা মিটিংয়ে রেজল্যুশন হয়েছে মাত্র।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার শহীদ মিনারের সামনে ১৫-২০ শ্রমিক নিয়ে তড়িঘড়ি করে প্রায় অর্ধশত বছরের পুরনো বিশাল আকৃতির ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলেছেন নাঙ্গলকোট বাজারের স্বাধীন করাতকলের মালিক ইউছুফ। সঙ্গে সঙ্গে গাছগুলোর ডালপালা ছাঁটাই করে তার করাতকলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ১৯৮৩ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গাছগুলো লাগানো হয়। গাছগুলো বছরের পর বছর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছিল। মনোরম পরিবেশের বিশাল আকৃতির মেহগনি গাছগুলো দেখতেও ছিল দৃষ্টিনন্দন। গরমের সময় দূরদূরান্ত থেকে উপজেলা পরিষদে আসা মানুষজন গাছের ছায়ায় বসে ক্লান্তি দূর করতেন।
আরও জানা যায়, স্বাধীন করাতকলের মালিক ইউছুফকে দিয়ে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর উপজেলা পরিষদের ভেতরের বিশাল আকৃতির বিভিন্ন প্রজাতির আরও শতাধিক গাছ কেটে ফেলেন ওই নির্বাহী কর্মকর্তা। তার পরে নতুন করে আর কোনো গাছ লাগানো হয়নি পরিষদ চত্বরে। যদিও তিনি বলেছেন নতুন চারাগাছ লাগিয়ে দৃষ্টিনন্দন একটি পার্কে রূপান্তরিত করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলার দৌলখাঁড় ইউপির দৌলখাঁড় গ্রামের ষাট বছরের বৃদ্ধ আব্দুল মান্নান বলেন, নির্বাচন অফিস বা উপজেলা পরিষদে কোনো দরকারে গেলে শহীদ মিনারের সামনে গাছের নিছে বসে বাতাস খাই, ক্লান্তি দূর করি। ওখানে শত শত লোক গরমের সময়ে গাছের ছায়ায় বসে ক্লান্তি দূর করে। এ নির্বাহী কর্মকর্তা আসার পরে উপজেলা পরিষদের ভেতরের সব গাছ কেটে সাফ করে ফেলেছে। এখন আর পরিষদের ভেতরে ছায়া দেওয়ার মতো কোনো গাছ নেই।
মেসার্স স্বাধীন করাতকলের মালিক ইউছুফ বলেন, গাছগুলো টেন্ডার হয়নি। ইউএনও স্যার বলছেন গাছগুলো কেটে তার করাতকলে রাখার জন্য। পরবর্তী সময় টেন্ডারের মাধ্যমে যে গাছগুলো পাবে সে গাছগুলো নিয়ে যাবে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, এ ১২টি গাছের এখনো টেন্ডার হয়নি। উপজেলা পরিষদ মিটিংয়ে ৪৮টি গাছ কাটার জন্য রেজল্যুশন হয়েছে। টেন্ডার হওয়ার পর গাছ কাটার কথা।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহেবুব বলেন, গাছগুলো কাটার টেন্ডার হয়েছে। পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞাপন দিয়ে গাছগুলো কাটা হচ্ছে।
কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুনায়েত আমিন রেজা বলেন, গাছ না থাকলে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটবে। একটি গাছ কাটলে পাঁচটি গাছ লাগাতে হয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পারলাম উপজেলা পরিষদের গাছ কাটা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে দেখি গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে কাটা হচ্ছে কি না।