কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলার দুই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান মেহেবুব এবং মো. ফোরকান এলাহি অনুপম একই সময়ে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলেন। এর মধ্যে রায়হান মেহেবুবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘টেন্ডার ছাড়াই’ উপজেলা পরিষদের গাছ কেটে এলাকা ছায়াশূন্য করে ফেলেছেন। অপরজন জুমার নামাজে কাতার থেকে একটু সরতে বলায় মসজিদের ইমামকে চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য করেছেন এবং তাকে পানিতে চুবাতে চেয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে কুমিল্লার লালমাই-নাঙ্গলকোটে হচ্ছেটা কী? দুই ইউএনও কি ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন?
রবিবার (১৪ অক্টোবর) দেশ রূপান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম ‘গাছ কেটে পরিষদ ‘সাফ’ করে দিয়েছেন ইউএনও’। এতে বলা হয়েছে, গত শুক্র ও শনিবার উপজেলা পরিষদের শহীদ মিনারের সামনে বিশাল আকৃতির ১২টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। উপজেলা বন কর্মকর্তা খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেনের দাবি করেছেন, গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা মিটিংয়ে রেজুল্যেশন হয়েছে মাত্র। কিন্তু টেন্ডার হয়নি।
অবশ্য এর আগেও গত বছরের ডিসেম্বরে উপজেলা পরিষদের ভেতরে বিভিন্ন আকৃতি ও প্রজাতির শতাধিক গাছ কেটে ফেলেন ইউএনও রায়হান মেহেবুব। এরপর সেখানে নতুন করে কোনো গাছ লাগানো হয়নি। যদিও ইউএনও রায়হান মেহেবুবের দাবি, নুতন চারাগাছ লাগিয়ে স্থানটিকে দৃষ্টিনন্দন পার্কে রূপান্তর করা হবে।
এদিকে যে ‘স্বাধীন করাতকল’-এর মাধ্যমে গাছগুলো কাটা হয়েছে তার মালিক ইউছুফ দেশ রূপান্তরকে বলছেন, গাছগুলো কাটার টেন্ডার হয়নি। ইউএনও তাকে বলছেন গাছগুলো কেটে তার করাতকলে রাখতে। পরবর্তীতে টেন্ডারের মাধ্যমে যে গাছগুলো পাবে সে গাছগুলো নিয়ে যাবে। যদিও ইউএনও রায়হান মেহেবুবের দাবি, গাছগুলো কাটার টেন্ডার হয়েছে। পত্রিকায় টেন্ডার বিজ্ঞাপন দিয়ে গাছগুলো কাটা হচ্ছে। তবে সেই টেন্ডার বিজ্ঞাপন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অপরদিকে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত ‘ইউএনওকে সরতে বলায় চাকরি হারালেন ইমাম’ শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন লালমাই উপজেলার ইউএনও মো. ফোরকান এলাহি অনুপম। ওই সময় মসজিদে খুতবা চলছিল। ইউএনও অনুপম সামনের কাতারে বসেছিলেন। একপর্যায়ে ভাটরা কাছারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবুল বাশার তাকে সরে গিয়ে একটু জায়গা করে দিতে বলেন। কিন্তু ইউএনওকে চিনতে না পারা মাওলানা আবুল বাশার তখনও জানতেন না এই অনুরোধের ফল কী হতে পারে।
নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর মুয়াজ্জিনসহ তাকে পুকুরপাড়ে ডেকে নিয়ে যান ইউএনও অনুপম। এ সময় কী হয়েছে তা জানা যায় ভুক্তভোগী মাওলানা আবুল বাশারের ভাষ্যে। তিনি জানান, ইউএনও অনুপমকে চিনতে পারেননি বলার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। ইমামকে পানিতে চুবানোর হুমকি দেন। একপর্যায়ে কোরআন—হাদিস ও ইসলামের ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। পরে তাকে মসজিদে যেতে মানা করা হয়।
পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিন সঠিক কাজ করে নাই। ইউএনও স্যারকে নামাজের সময় সরতে বাধ্য করেছে। এটা তারা করতে পারে না। তাছাড়া ইমামের এলেম অনেক কম। ইউএনও স্যারের অনেক সহজ প্রশ্নের উত্তর ইমাম দিতে পারেনি। সে কারণে আমি কমিটির লোকজনকে বলেছি ইমামকে বাদ দিতে।’
এদিকে ইউএনও অনুপম ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন। তার মতে, মসজিদের ইমাম উপজেলা থেকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। কিন্তু কর্মজীবনে তিনি এর আগেও সমালোচিত হয়েছেন। একসময় চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ভূমি অফিসে ছিলেন। পরে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে। সব জায়গায় বিতর্ক হয়েছে তাকে নিয়ে। কখনো মানুষের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ, কখনো দুর্নীতিতে যুক্ত থাকার। ফলে লাগাম না টানলে তার এই ঔদ্ধত্য কবে থামবে তা বলা মুশকিল।
আরও পড়ুন