মানিকগঞ্জের সিংগাইরে উপজেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে জমি থেকে ড্রেজারে মাটি উত্তোলন চলছে দেদার। এতে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, আশপাশের বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। প্রভাবশালী মাটিখোরদের বিরুদ্ধে গিয়ে অসহায় জমির মালিকরা প্রতিবাদ করার সাহসও পাচ্ছে না।
জানা যায়, উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের খোলাপাড়া এলাকায় একাধিক স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে প্রতিনিয়ত কৃষিজমি, পুকুর ও বসতবাড়িসংলগ্ন জায়গা থেকে মাটি উত্তোলন করছেন স্থানীয় প্রভাবশালী আবদুল কুদ্দুস কোম্পানি ও তার লোকজন। তাদের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব জেনেও না জানার ভান করছেন। কখনো ঘটনাস্থলে গেলে ড্রেজার মেশিন বন্ধ করে পাইপ খুলে দিয়ে আসেন। কিন্তু পরক্ষণেই আবার চালু করা হয়। মাঝেমধ্যে দিনে বন্ধ রাখলেও চলে সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত।
সরেজমিন দেখা যায়, খোলাপাড়া গ্রামের হায়াত আলীর বাড়ির পেছনে অবাধে চলছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন। ভরাট করা হচ্ছে পার্শ্ববর্তী একটি জায়গা। পরে সুবিধামতো বিক্রি করা হয় এসব মাটি। ড্রেজারে গর্ত করে মাটি কাটায় ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আশপাশের ফসলি জমি বসতবাড়ি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক
কৃষক জানান, ড্রেজার বসিয়ে গভীর করে মাটি কাটার কারণে তাদের ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কেউ জমি দিতে না চাইলে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দিয়ে জোর করে মাটি কেটে নেয় প্রভাবশালী মাটিখোররা। তাই শেষ পর্যন্ত ড্রেজার মালিকদের কাছে কম দামে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন সাধারণ কৃষক। প্রতিবাদ করার সাহস কেউ পায় না। প্রশাসনের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এলেও ড্রেজার মেশিন বন্ধ রাখার কথা বলে চলে যান। পরক্ষণেই আবার মাটি কাটার উৎসব চলে।
ড্রেজার মালিক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘আমার পুকুর থেকে ড্রেজারে মাটি কেটে পাশের জমিতে ফেলছি। চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর করে কাটলে পাশের জমির কোনো সমস্যা হয় না।’ বলধারা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি স্যারদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
সিংগাইর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবদুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ওই এলাকায় একটি অবৈধ ড্রেজার ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলোরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’