সাত মাস বয়সী অজিহা মায়ের মুখ খুঁজে বেড়াচ্ছে। মাকে না পেয়ে একটু পর পর কেঁদে উঠছে শিশুটি। খেলনা দিয়ে তাকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছেন স্বজনরা। অন্যদিকে, শিশুটির বাবা প্রবাস ফেরত মো. শাহ আলম সরকার কিছুক্ষণ পর পর অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন। স্ত্রীসহ দুই সন্তানকে হারিয়ে নির্বাক তিনি। তাদের মৃত্যুর খবর শুনে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে তিনি দেশে ফেরেন।
অজিহার মা ও দুই ভাইকে খুন করেছেন জহিরুল ইসলাম নামেন এক আত্মীয়। অজিহা কিছু বোঝে না বলে সাক্ষী হতে পারবে না-এমনটা ভেবেই তার ওপর আঘাত করেননি অভিযুক্ত খুনি।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম জানান, জহিরুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞআসাবাদে জানায়, পারিবারিক সমস্যা নিয়ে খালা শাশুড়ির সাথে আলোচনার জন্য রাত সাড়ে ৮ টায় সে জেকি আক্তারের ঘরে আসে। রাত সাড়ে ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যেই তিনজনকে হত্যা করেছে। আমরা লাশ উদ্ধারের পর জানতে পারি জেকি তার বড়বোন শিল্পীকে রাতেই জানায় যে জহিরুল ইসলাম তার বাড়িতে এসেছে। এরপর আমরা অভিযান চালিয়ে জহিরুলকে গ্রেপ্তার করি।
তিনি আরও জানান, বুধবার বিকালে জহিরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জেকি আক্তার এবং তার দুই ছেলে মাহিন ও মহিনের লাশ বুধবার সন্ধ্যায় দাফন করা হয়েছে। এর আগে দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত জেকি আক্তারের ভাগ্নি জামাই জহিরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আজ বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্বাগত সৌম্যের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জেকি আক্তারের বাবা মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘ওজিহা তার মায়ের চেহারার সঙ্গে কারো চেহারার মিল পাচ্ছে না। সে তার মাকে খুঁজছে। বারবার কেঁদে উঠছে। তাকে ঠিকভাবে খাওয়ানো যাচ্ছে না। আপাতত সে তার এক চাচির কাছে আছে।’
উল্লেখ্য যে, গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের চর ছায়ানি দক্ষিণপাড়ায় ঘরের দরজা ভেঙে জেকি আক্তার ও তার দুই ছেলের লাশগুলো উদ্ধার করা হয়। তবে বিছানায় জেকির কন্যা শিশু সন্তান সাত মাসের অজিহাকে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়।