ম্যাচে হারজিতের ন্যূনতম রোমাঞ্চ নেই, সমস্ত উত্তেজনা বিরাট কোহলির শতরান হবে কি হবে না এই নিয়ে। দলের জিততে যখন দরকার মাত্র ২ রান, হাতে ৯ ওভার বাকি তখন কোহলির রান ৯৭। এমন সময় নাসুম আহমেদ বলটা করলেন লেগ স্টাম্পের বাইরে। ফিরিয়ে আনলেন ২১ বছর আগে এক স্বদেশির কুকীর্তির স্মৃতি।
২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়া বাংলাদেশ দলে ছিলেন অলক কাপালি। টানা তিন ওয়ানডেতে সেঞ্চুরি করা হার্শেল গিবস তখন ৯৭ রানে অপরাজিত, দুই দলের রান সমান। এমন সময় কাপালি করেন ওয়াইড বল, চার মেরে দলের জয় আর নিজের টানা চতুর্থ সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়তে পারেননি গিবস।
কাপালির জেলা সিলেটেরই ক্রিকেটার নাসুম একই কাজটা করতে গেলেন। তবে এবার আম্পায়ার ওয়াইড দেননি। এক বল পর কোহলি ডাউন দ্য উইকেটে এসে মেরেছেন ছক্কা, তাতে দলের জয় আর নিজের ৪৮তম শতরান পূর্ণ হয়েছে একসঙ্গে।
ভারতের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আসা শুবমান গিলের কাছে সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, ‘শতরানের দোরগোড়ায় থাকা কোহলিকে ওয়াইড বল করার চেষ্টায় কি অবাক হয়েছেন?’
গিলের উত্তর ছিল, ‘আমরা জানি না সে ইচ্ছে করে ওয়াইড বল করতে চেয়েছে নাকি সোজা বল করতে গিয়ে হয়ে গেছে।’
একই প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও। তিনি বলেছেন, ‘না না, এরকম কোনো প্ল্যান ছিল না। নরমাল প্ল্যান ছিল। কোনো বোলারের এমন কোনো ইনটেনশন ছিল না ওয়াইড বল করবে। আমরা প্রপার গেইম খেলার চেষ্টা করেছি।’
শ্রীলঙ্কার বোলার সুরজ রণদিভও একবার ইচ্ছে করে নো বল করে সেঞ্চুরিবঞ্চিত করেছিলেন শতরানের দোরগোড়ায় থাকা বীরেন্দর শেবাগকে। অথচ বছর দশেক আগে, চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্টটা আম্পায়াররা ড্র ঘোষণা করার পর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আরও এক ওভার খেলিয়েছিলেন, কারণ সাকিব ছিলেন ৪৬ রানে অপরাজিত। ইশ সোধির করা পরের ওভারের দ্বিতীয় বলেই সাকিব চার মারেন, হাফসেঞ্চুরি হয় আর খেলাও ঘোষণা করা হয় ড্র।
বাংলাদেশের এই ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি সামান্যই, তবে অন্যের অর্জনকে নষ্ট করে দেওয়ার প্রচেষ্টাটা গেছে ক্রিকেটের চেতনার বিপক্ষেই।