সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন স্থানীয় সাংসদ। বিটুমিন-কারপেটিং করার জন্য নতুন এ সড়কটি প্রথম পর্যায়ে দুই কিলোমিটার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর জন্য পৃথকভাবে দুজন ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১০ মাসে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ইতিমধ্যে সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়কের নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি।
বর্ষা মৌসুমে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি চষা জমিতে পরিণত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী কয়েক হাজার মানুষ। সড়কটি হলো পটুয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা রাঙ্গাবালী থেকে বিচ্ছিন্ন নবগঠিত মৌডুবি ইউনিয়নের মৌডুবি বাজার থেকে মুখরবান্দা সাইক্লোন শেল্টার সড়ক।
মৌডুবি ইউপি কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয় মৌডুবি। আলাদা ইউনিয়ন হলেও যোগাযোগের ক্ষেত্রে তেমন উন্নত ছিল না। এই ইউনিয়নে রয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণীয় সমুদ্রসৈকত জাহাজমারা। স্থানীয়দের পাশাপাশি প্রচুর পর্যটক ও দর্শনার্থী আসেন এই সৈকতে। তবে বর্ষা মৌসুমে কর্দমাক্ত সড়কে লোকজনের আগমন কম ঘটে।
ইউনিয়নে লোকসংখ্যা ২২ হাজার। প্রধান সড়ক রয়েছে ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে মাত্র ছয় কিলোমিটার সড়ক পাকা। ইট বিছানো সড়ক রয়েছে দুই কিলোমিটার। বাকি মাটির রাস্তা।
রাঙ্গাবালী এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ মৌডুবি বাজার থেকে মুখরবান্দা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। সাড়ে চার কিলোমিটার এই কাঁচা সড়কের মধ্যে দুই কিলোমিটার সড়ক বিটুমিন-কার্পেটিং করে পাকা সড়ক নির্মাণে চলতি বছর ২০ জানুয়ারি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী) আসনের সাংসদ মহিব্বুর রহমান। দরপত্র আহ্বান ও ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন করে ১৪ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশও দেওয়া হয়। কাজটি পান ইলিয়াস সিকদার ও আলতাফ হোসেন হাওলাদার নামে দুজন ঠিকাদার। সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ৩১ ডিসেম্বর।
এদিকে ১০ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সড়ক নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, মৌডুবি ইউনিয়নের বাজার থেকে সড়কটি মুখরবান্দা সাইক্লোন শেল্টার পর্যন্ত দীর্ঘ এ সড়কটি পানি-কাদায় চাষা জমি এবং কোথাও কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি যানবাহন ও লোকজন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে আছে।
এ সড়কের পাশে রয়েছে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী আসিস জানায়, রাস্তা কাদাপানিতে পিছল হয়ে রয়েছে। অনেক সময়ে বইখাতাসহ রাস্তায় কাদাপানিতে পিছলে পড়ে ভিজে স্কুলে না গিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়।
মুখরবান্দা গ্রামের ভ্যানচালক আবদুস সোবাহান বলেন, এ রাস্তায় ভ্যান চালিয়ে আমার সংসার চলে। বর্ষাকালে পুরো রাস্তায় কাদাপানিতে ভরে থাকে। চলাচলের অবস্থা নেই। আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে কষ্টে পড়তে হয়।
মৌডুবি ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল মাহামুদ জানান, আলাদা ইউনিয়ন হওয়ার পর তিনি প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সড়কের বিষয়টি এলজিইডি বরাবর অবহিত করা হয়েছে।
সড়ক নির্মাণকাজ শুরু না করা প্রসঙ্গে ঠিকাদার ইলিয়াস সিকদার জানান, রাস্তাঘাট কাদাপানিতে একাকার থাকায় মালামাল নেওয়া যাচ্ছে না। অন্য ঠিকাদার আলতাফ হোসেন হাওলাদার বলেন, কাঁচা সড়ক দিয়ে গাড়িতে করে মালামাল নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে কাজ দ্রুত শুরু করব।
রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, ডিসেম্বরে কাজের মেয়াদ শেষ হবে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারদের তাগাদা দেওয়া হচ্ছে।