বিরাট কোহলির অনবদ্য নৈপূণ্যে ভারতবাসীকে অষ্টমীর উপহার দিল ভারত। বিশ্বকাপে টানা ৫ ম্যাচ জিতে এক পা দিয়ে রাখল সেমিফাইনালে। নিউজিল্যান্ড পেল প্রথম হারের স্বাদ। ধর্মশালায় ১২ বল বাকি থাকতে ভারত ম্যাচ জিতেছে ৪ উইকেটে।
মোহাম্মদ শামির আগুনঝড়া পেসে নিউজিল্যান্ড যখন ২৭৩ রানে থেমেছে, তখনই ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয়ে গেছে। তারও আগে টসভাগ্যে যখন রোহিত শর্মা জিতে নিয়েছেন ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত, চাইলে সেসময়ই বিজয়োল্লাস করে নিতে পারতেন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচ জিতেই মাঠ ছেড়েছেন বিরাট কোহলিরা।
কিউইদের ছুড়ে দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালাচ্ছিলেন অধিনায়ক রোহিত ও শুবমান গিল। উদ্বোধনীতে দুজনে মিলে গড়েন ৭১ রানের জুটি। ফিফটি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে আউট হয়ে যান রোহিত। তাতেই ভাঙে জুটি। ফেরার আগে করেছিলেন তার ব্যাট থেকে আসে চারটি করে চার ও ছক্কা। তার বিদায়ের ৫ রান পর ফিরে যান গিলও। তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান।
তাদের বিদায়ের পর হাল ধরেন বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়্যার। তাদের ব্যাটে ১৫.৪ ওভারেই ভারত যখন তুলে নেয় ১০০ রান, তখনই ধর্মশালায় কুয়াশার হানা। তীব্র কুহেলিকায় সবকিছুই ঝাপসা হয়ে আসছিল। তাতে খেলা বন্ধ রাখতে হয়। তবে মিনিট দশেক পরেই আবার মাঠে গড়ায় বল। ব্যাক্তিগত ৩৩ রান করে ফিরে যান শ্রেয়াস। কেএল রাহুল মাঠে নামলে অনেকেই ভেবে নিয়েছিলেন ম্যাচ শেষ করে আসবেন। কিন্তু প্রতিদিন একই প্লটে গল্প লেখা হয় না। রাহুলও তাই আজ ২৭ রানের বেশি করতে পারেননি। তাতে টুর্নামেন্টে প্রথমবার ব্যাট করতে নামার সুযোগ হয় সূর্যকুমার যাদবের।
বিশ্বকাপের এবারের আসরে প্রথম ম্যাচে ভারত ৪ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সেদিন হার্দিক পান্ডিয়া নেমে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরেন। গতকাল সেটা সূর্য ৪ বলে ২ রান করেই ফিরে যান। তাতে প্রথমবার টুর্নামেন্টে ৫ উইকেট হারায় ভারত। রবীন্দ্র জাদেজাও নামেন প্রথমবারের মতো। বিরাটের সঙ্গে বাধেন ম্যাচ জেতানো জুটি।
ওপরে বলা হচ্ছিল প্রতিদিন একই প্লটে গল্প লেখা হয় না। তবে গল্পকারের নাম যদি হয় বিরাট কোহলি। তাহলে তো প্রত্যাশা এক রকম হবেই। পাকিস্তানের বিপক্ষেই শুধু ১৬ রান করে আউট হয়েছিলেন। নয়তো প্রতিটি ম্যাচেই পেয়েছেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের ইনিংস। আগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে তো করেছেন সেঞ্চুরিই। কাল হিমাচল প্রদেশের শীতের রাতেও তিনি এগোতে থাকেন ৪৯তম সেঞ্চুরির দিকে। যা করা মানে শচীন টেন্ডুলকারের স্পর্শ পাওয়া। তবে একদম শেষে থামতে হয় ৫ রান দূরে থাকতে।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যান ডেভন কনওয়ে হতাশ করেছেন। উইল ইয়াংও মেটাতে পারেননি প্রত্যাশা। তাতে পাওয়ার প্লেতেও আসেনি ভালো সংগ্রহ। তবে রাচিন রবীন্দ্র ও ডেরেল মিচেলের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটে গড়েছেন লম্বা জুটি। তাতে একটা সময় আভাস ছিল সাড়ে তিনশ রানের। কিন্তু পেসার মোহাম্মদ শামির বলে ভারত ফিরিয়ে আনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। শিকার করেন ৫ উইকেট। শেষ বেলায় তাই কিউইরা আর ৩০০ রানই করতে পারেনি। ড্যারিল মিচেলের সেঞ্চুরির পরও নিউজিল্যান্ড থেমে যায় ২৭৩ রানে।