মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ায় গাজীপুরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও এর ঠিক বিপরীত চিত্র জাহাঙ্গীরবিরোধী শিবিরে। শনিবার রাত থেকে গতকাল রবিবার বিকেল পর্যন্ত শত শত নেতাকর্মী জাহাঙ্গীরের মেয়র ভবনে ভিড় করেন। একে অপরকে মিষ্টিমুখ করান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেওয়া হয় নানা স্লোগান।
অন্যদিকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার পর জাহাঙ্গীরবিরোধীরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কোথাও কেউ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলমের বিরোধীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখছেন। দলের এ সিদ্ধান্তে অনেকে অসন্তুষ্ট হলেও কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে পারছেন না। সিটি করপোরেশনের অনেক কাউন্সিলর এক সময় জাহাঙ্গীর আলমের বিরোধী থাকলেও সিটি নির্বাচনে জায়েদা খাতুন নির্বাচিত হওয়ার পর তারা জাহাঙ্গীরের কাছাকাছি আসতে থাকেন।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি। দল যা ভালো মনে করেছে তাই, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অবশ্যই আমরা মেনে নেব। আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকবে না। রাজনীতি করতে গেলে একবার কারও সঙ্গে বিরোধ হয় আবার মিল হয়ে যায়। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
জাহাঙ্গীরবিরোধী হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) দেশ রূপান্তরকে জানান, জাহাঙ্গীর আলমকে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার খবরে আমরা অনেকে বিব্রত হলেও দল যা ভালো মনে করেছে তাই করেছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ সময় দলে বিভাজন কমিয়ে আনাই ভালো। তবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আগামী নির্বাচনে মাঠে নামতে হবে। এ জন্য গাজীপুরে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের উদ্যোগী হতে হবে। নেতা এবং কর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। নিরসন করতে হবে দলের সব ধরনের কোন্দল।
জাহাঙ্গীর আলমের কঠোর বিরোধী, সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের অপর এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কোনো কথা নেই। আমরা জাহাঙ্গীর আলমের নানা কর্মকা-ের বিরোধিতা করেছি। এখন দল যদি তাকে মেনে নেয় তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি বড় কোনো পদ নিয়ে এলেও তা মেনেই রাজনীতি করতে হবে। আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরে সব বিভেদ ভুলে আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আজমত উল্লা খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাকে দল প্রাথমিক সদস্যপদ দিয়েছে। তাই এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। এটা সেন্ট্রাল আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত। তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে আবার আওয়ামী লীগ দলে নিয়েছে। এটা আহামরি কিছু না। তিনি আমাদের কাছে বুদ্ধি-পরামর্শ চাইলে দেব। তিনি যেখানে কাজ করতে চান, সেখানেই কাজ করতে পারবেন।’
মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আতাউল্যাহ মন্ডল বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম দলে ফিরেছেন শুনেছি। যেহেতু আমরা একই এলাকায় রাজনীতি করি। তাই আলাদাভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি দলে ফিরলে আমরা একসঙ্গে কাজ করব। দলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই আমাদের মেনে নিতে হবে।’
এদিকে রবিবার সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ দলে দলে ছুটে আসেন মেয়র ভবনে। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।
তার বাসভবনের সামনে শত শত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি জননেত্রী, দেশরতœ শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ লালন করে আসছি। আজীবন আমি আওয়ামী লীগের জন্য কাজ কাজ করে যাব।
উল্লেখ্য, শনিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জাহাঙ্গীর আলমকে ক্ষমা করে দিয়ে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।