আউটসোর্সিং কাজের উসিলায় ২০২২ সালে ফেসবুকে মার্কিন তরুণী হারলির সঙ্গে পরিচয় হয় ঈশ্বরদীর আসাদুজ্জামানের। ফেসবুকে তখন শুরু হয় দুজনের কথা। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দূরত্ব বাধা হলেও প্রেমের টানে সুদূর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছুটে এলেন হারলি। এখন তারা বিয়ে করে সংসার করছেন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায়।
ওই তরুণীর নাম হারলি এবেগেল আইরিন ডেভিডসন (২০)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি প্রদেশের জর্জটাউন শহরের বাসিন্দা। বিয়ে করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা সদরের পিয়ারাখালী মহল্লার মো. আসাদুজ্জামানকে (২৭)। বর্তমানে তারা একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার শুরু করেছেন।
১৮ অক্টোবর হারলি বাংলাদেশে আসেন। এরপর ১৯ অক্টোবর তারা ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেন। বর্তমানে একটি ভাড়া বাড়িতে সংসার শুরু করেছেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, ফেসবুকে কথা হতো। তারপর ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব। একপর্যায়ে প্রেম। পরে দুজন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই। দুই পরিবারই বিয়েতে সম্মতি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে হারলি বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি বলেন, খাবার নিয়ে হারলির একটু সমস্যা হচ্ছে। তবে তিনি খুব আন্তরিকতার সঙ্গে পরিবেশ মানিয়ে নিচ্ছেন। কিছু কিছু বাংলা শিখেছেন। পরিবারের অন্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। প্রতিদিন ঘুরে ঘরে গ্রাম দেখছেন।
হারলি আইরিন ডেভিডসন বলেন, বাংলাদেশ নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা শুনেছিলেন। তাই একটু ভয় ছিল। তবে এসে দেখেন, সেসব সত্য নয়। এই দেশ, দেশের মানুষ অনেক ভালো।
বিদেশি পুত্রবধূকে পেয়ে আসাদুজ্জামানের বাবা আবদুল লতিফ বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আল্লাহ কার সঙ্গে কার জোড়া লিখে রাখছেন, তিনিই জানেন। প্রতিদিন অনেক মানুষ নতুন বউমাকে দেখতে আসছেন।’
ঈশ্বরদী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি মেয়ে তাদের গ্রামে এসে বিয়ে করেছেন। বিষয়টি জানার পর দেখতে গিয়েছিলেন। তাদের ভালোবাসার গল্প শুনে ভালো লাগছে।’