ঘূর্ণিঝড় হামুনের আঘাতে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও দুই হাজার ঘরবাড়ি। উপড়ে গেছে শত শত গাছপালা। ফসলি জমি ও বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে পেকুয়ার সাত ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। হামুনের তাণ্ডবে চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বাসিন্দা ও বদরখালী সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতির সদস্য আসকর আলী নিহত হয়েছেন।
এদিকে, চকরিয়া উপজেলার মানিকপুর সড়কের একটি সেতু হামুনের তীব্র বাতাসে বিধ্বস্ত হয়ে উপজেলা সদরের সাথে মানিকপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
সরেজমিনে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গতকাল রাতে ঘূর্ণিঝড় হামুনের আঘাতে উপজেলার মগনামা, রাজাখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, বারবাকিয়া, টইটং ও শিলখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রায় দেড় হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। আর এসব ইউনিয়নে আরও দুই হাজার ঘর বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় গতকাল রাতে ঘূর্ণিঝড় হামুনের তান্ডবে প্রায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বসত বাড়ির মূল্যবান ফলজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ-গাছালি উপড়ে গেছে।
পেকুয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হামুনের আঘাতে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়েছিল। আজ বুধবার সকাল থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহায়তায় এসব গাছ অপসারণ করা হয়েছে।
পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু তাহের জানান, ঘূর্ণিঝড়ে হামুনের তীব্র বাতাসের কারণে গতকাল রাতে পেকুয়ার অনেক এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার লোকজনের জন্য সরকারের দুর্যোগ অধিদপ্তর থেকে ২ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।