আগামীতে এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২২টি নবায়ণযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সদস্য এম. আব্দুল লতিফের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি আরও জানান, নবায়ণযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বর্তমানে দেশে ৪৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহম্মদ হাবিব হাসানের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় বর্তমানে ৩৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ ২১ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পে বিনিয়োগের পরিমাণ এক লাখ ২১ হাজার ৬৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।
জাতীয় পার্টির সদস্য নাসরিন জাহান রত্নার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে নসরুল হামিদ জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে চলতি বছর আগস্টে এক হাজার ১৩৪টি অভিযান পরিচালনা করে ৪ হাজার ৫৭৫টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ৪১ দশমিক ৪২ কিলোমিটার পাইপলাইন অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার ও অপচয় রোধে নানামুখী কর্মসূচী এবং বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার রোধে লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, বিজ্ঞাপন (বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়), স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সভা-সেমিনার আয়োজন, বিভিন্ন ধরনের মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্যাসের সঠিক ব্যবহার, অবৈধ সংযোগ গ্রহণের ঝুঁকি, পরবর্তীতে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা এবং গ্যাস আইন-২০১০ অনুযায়ী শান্তির বিধান সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ রোধে প্রত্যেক গ্যাস বিতরণ কোম্পানির কেন্দ্রীয় ভিজিলেন্স টিম ও আঞ্চলিক পরিদর্শন টিমের সংখ্যা বৃদ্ধি করে কার্যক্রম জোরদার করা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির সহায়তায় এ কার্যক্রমকে অধিকতর বেগবান করা হয়েছে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে বিচ্ছিন্নকৃত গ্রাহক বা গ্যাস ব্যবহারকারীর নাম, ঠিকানা পরিচিতি মিডিয়ার মাধ্যমে জনসাধারণের নিকট প্রকাশ করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সাথে সমš^য় করে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।
একই প্রশ্নের জবাবে নসরুল হামিদ জানান, গৃহস্থালী গ্রাহকদের পর্যায়ক্রমে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রকল্প চলমান আছে। গ্যাস বিতরণ পাইপলাইনে লিকেজ হলে গ্যাস বিতরণ কোম্পানিসমূহের নির্দিষ্ট জরুরি নম্বরে জানালে যুক্ত লিকেজ মেরামতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া, বাণিজ্যিক ও গৃহস্থালী গ্রাহকদেরকে জ্বালানী সাশ্রয়ী বার্নার ব্যবহারে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গত আগস্ট মাসে পেট্রোবাংলার আওতাধীন ৬টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানীর মাধ্যমে মোট এক হাজার ১৩৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ৪ হাজার ৫৭৫টি সংযোগ এবং ২৬ হাজার ৬৬৭টি বার্নার বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন খানের প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০১৯ সাল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত দেশে মোট ৬টি গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে।