ঢাবির বিশেষ সমাবর্তন ২৯ অক্টোবর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সমাবর্তনে আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এই সমাবর্তনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ (মরণোত্তর) ডিগ্রি প্রদানের মাধ্যমে ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। তবে এই সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ আর্টিকেল ১০(১) অনুযায়ী এবং রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর-এর সদয় অনুমতিক্রমে সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বিশেষ সমাবর্তনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অ্যালামনাই, রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েটবৃন্দ এবং অতিথিবৃন্দসহ প্রায় ১৯ হাজার গণ্যমান্য ব্যক্তি অংশগ্রহণ করবেন।
অতিথিদের মধ্যে থাকবেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রীবর্গ ও সংসদ সদস্যবৃন্দ, ঢাকাস্থ বিদেশি দূতাবাস/ হাইকমিশনের রাষ্ট্রদূত/ হাইকমিশনার/ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ, সিনেট, সিন্ডিকেট ও অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সুধীজন।

বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিং-এ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কথা বলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে উত্তম কেউ হতে পারে না। সেজন্য একটু দেরি হলেও আমরা উনাকে পেয়েছি। বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি দেওয়া আমাদের জন্য সম্মানের মর্যাদার। এটা আমাদের দায়বদ্ধতার জায়গা। এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের জন্য যার অবদান অতুলনীয়। একইসাথে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সম্মানিত গ্রাজুয়েট। নিঃসন্দেহে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ইতিহাস এবং জাতির জন্য সম্মানের। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি প্রদান করতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি।

উপাচার্য সমাবর্তন অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারী, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।সমাবর্তন শান্তিপূর্নভাবে আয়োজনে ক্যাম্পাসের স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ক্রীয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সকল রাজনৈতিক দল ও ভিন্নমতের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উপাচার্য আহ্বান জানান।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে 'অগণতান্ত্রিক সরকার প্রধান' উল্লেখ করে এই সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আরোগ্য ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে সাদা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান এ বিষয়ে কথা বলেন।

অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, দেশ আজকে ক্রান্তিলগ্নে রয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। তার একপাক্ষিক নির্বাচনের কারণে আমেরিকা আজ তাদের উপর ভিসা নীতি প্রয়োগ করেছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠান তাকে বিশেষ সমাবর্তনের মূল বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ করেছে যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল একটি দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আমরা শেখ হাসিনাকে সমাবর্তনে আমন্ত্রণ জানানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি।

সাদা দলের।যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আগামী ২৯ অক্টোবরের বিশেষ সমাবর্তনে এমন একজনকে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যে কি-না অগণতান্ত্রিক সরকার, যার কারণে আমেরিকা আমাদের উপর ভিসা নীতি প্রণয়ন করেছে। তাই আমরা তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য সাদা দল থেকে বিশেষ সমাবর্তন বর্জনের ঘোষণা দিলাম।