ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামে বিএনপির এক নেতার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি অভিযান চালায়। এ সময় উপজেলা বিএনপি নেতা ইকরাম হোসেন লাভলু বাড়িতে ছিলেন না। পরে পুলিশ তার স্ত্রী রেঞ্জুয়ারা বেগম (৪০) এর সাথে কথা বলে। অভিযানের একপর্যায়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিএনপি নেতা লাভলুর স্ত্রী রেঞ্জুয়ারা বেগম মারা গেছেন এমন অভিযোগ করেছেন তিনি।
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামে ইকরাম হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তবে নগরকান্দা পুলিশের পক্ষ থেকে এমন ঘটনার বিষয়ে কোনো কিছু জানা নেই বলে জানান নগরকান্দা থানার এক কর্মকর্তা।
স্থানীয়ভাবে এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের দহিসারা গ্রামের বিএনপি নেতা ইকরাম হোসেন লাভলুর বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এসময় লাভলু বাড়িতে ছিলেন না। ইকরাম হোসেন লাভলু ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক। তার স্ত্রী রেঞ্জুয়ারা বেগম নগরকান্দা উপজেলার চাঁদহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। রেঞ্জুয়ারা বেগম এর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
বিএনপি নেতা এস এম ইকরাম হোসেন লাভলু জানান, শনিবার রাত ১১টা থেকে রাত সোয়া ১১টার দিকে পুলিশের একটি দল তার বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় বাড়িতে তার স্ত্রী রেঞ্জুয়ারা বেগম একাই ছিলেন। প্রথমে তার স্ত্রী দরজা না খুললেও একপর্যায়ে পুলিশের কথা বার্তার কারণে দরজা খুলে দেয় তার স্ত্রী। পুলিশ ঘরে প্রবেশ করেই দ্বিতীয় তলায় চলে যায়। এসময় বাড়ির প্রতিটি রুম গিয়ে পুলিশ বিএনপি নেতা লাভলুর খোজ করে। পুলিশ এসময় বিএনপি নেতাকে না পেয়ে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে। পুলিশ যখন ঘরে তছনছ করছিল, তখন তার স্ত্রী ঘরের একটি সোফায় বসা ছিলেন। তছনছের দৃশ্য দেখে তার স্ত্রী বসা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিএনপি নেতার স্ত্রীর এ অবস্থা দেখে পুলিশের দলটি বাইরে চলে আসে এবং পাশের বাড়ির রবিউল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে ডেকে এনে এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাকে একটু দেখতে বলেন। এই বলে পুলিশ চলে যায়। পরবর্তীতে রবিউল ইসলাম তার আত্মীয়-স্বজনসহ রেঞ্জুয়ারা বেগমকে একটি মাইক্রোবাসে করে পাশের মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়ির রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা রাতে ঘুমিয়ে ছিলাম এমন সময় রাত ১২টার দিকে হঠাৎ কে বা কারা বাড়ির দরজা খোলার কথা বলে। তখন দরজা খুলতে দেরি হলে ওপাশ থেকে আওয়াজ আসে আমরা পুলিশের লোক তাড়াতাড়ি দরজা খোলেন। এসময় আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে দরজা খুলি। পরে তারা আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে পাশের বাড়ির এক মহিলা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তাকে একটু দেখতে বলেন। গিয়ে দেখি আমার গ্রামের সম্পর্কে মামি অসুস্থ অবস্থায় সোফার ওপর পড়ে আছেন। নাক, মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছিল। তখন দ্রুত আশপাশের সবাইকে ডেকে নিয়ে মুকসেদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিই। কর্তব্যরত চিকিৎসক এসময় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার বিষয়ে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, আমার এ বিষয়ে কোনো কিছু জানা নেই। তবে সকাল থেকে কয়েকজন ফোন করে জানতে চেয়েছে বিষয়টি নিয়ে। পুলিশ প্রতিদিনই ডিইটি পালন করছে। এ জাতীয় কোনো ঘটনা পুলিশ ঘটায়নি। পুলিশের আতঙ্কে কেউ মারা গেছেন বলে আমার জানা নেই।