ঘুরে দাঁড়াতে চায় পাকিস্তানও

লক্ষ্মীপূজার দিন কলকাতায় নেমে নির্ধারিত ট্রেনিং সেশন বাতিল করেছিল পাকিস্তান দল। টানা পাঁচ ম্যাচ হারা বাংলাদেশের জন্য এক দিনের প্রস্তুতিই যথেষ্ট মনে করেছে পাকিস্তান, এটা ভেবে আবার ভুল করবেন না। আসলে বিশ্বকাপে ভালো অবস্থায় নেই পাকিস্তানও। চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আগুনে ম্যাচ ১ উইকেটে হেরে পরের ভোরেই কলকাতার বিমান ধরতে হয়েছিল তাদের। তাই মাঠে ঘাম ঝরানোর চেয়ে হোটেলে বিশ্রামকেই বড় টনিক মনে করেছে পাকিস্তান টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশ্রামের ফাঁকে কড়া নিরাপত্তার মাঝেও হোটেলের আশপাশে ঘুরেছেন বাবর আজমরা। প্রিয়জনের জন্য টুকটাক শপিং করেছেন, ঘুরেছেন হোটেলের পাশের পার্কে। তবে সেটা খুব অল্প সময়ের জন্য। গতকাল অবশ্য পুরো তিন ঘণ্টার সেশনে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছে প্রথম দুই জয়ের পর শেষ চার ম্যাচ হারা পাকিস্তান। শেষ চারে জায়গা পেতে আজ বাংলাদেশকে হারানোর বিকল্প নেই। এমন ম্যাচের প্রস্তুতির ফাঁকে আবার কলকাতায় ভক্তদের ভালোবাসার জবাবও দিতে হয়েছে নানাভাবে। কখনো অটোগ্রাফ দিয়ে, কখনো সেলফি তুলে, আবার কখনো ইডেনের গ্যালারির সামনে গিয়ে হাত নেড়ে, মিলিয়ে। এর মাঝে অবশ্য একটা মেজাজও হারিয়েছিলেন কাপ্তান বাবর আজম। ইডেনে ক্রমাগত বেজে চলা গানে ভীষণ বিরক্ত হয়েছিলেন। পাকিস্তান অধিনায়কের বিরক্তির কথা জেনে অবশ্য মিউজিক থেমেছে। বোঝাই গেছে, এই ম্যাচে দলের জয় ও নিজের ফর্ম ফিরে পেতে কতটা মরিয়া বাবর।

দলের জয়ে ফিরতে মরিয়া ভাবটা বোঝা গেছে কোচ গ্র্যান্ড ব্র্যাডবার্নের কথায়। অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রতিপক্ষ বাংলাদেশের প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখালেন নিউজিল্যান্ডের এই কোচ। টানা চার ম্যাচ হারাটাকে অপ্রত্যাশিত দাবি করে ব্যর্থতার জন্য ভারতে যথেষ্ট খেলার সুযোগ না পাওয়াকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন কোচ, ‘আমরা যে অবস্থানে আছি, সেটা কখনোই চাইনি। আমরা চেয়েছিলাম টুর্নামেন্টের এই জায়গায় এসে নিজেদের লক্ষ্যটা নিজেরাই নির্ধারণ করব, তবে সেই অবস্থানে আমরা যেতে পারিনি; যা আমাদের ভীষণ হতাশ করেছে। আমাদের জন্য এই কন্ডিশনটা মোটেই পরিচিত নয়। আমাদের খেলোয়াড়রা এখানে আগে খুব বেশি খেলেনি। এই ইডেনের মতো আমাদের কাছে প্রতিটি ভেন্যুই নতুন ও অচেনা।’ চার ম্যাচ হারের হতাশা ভুলতে আজকের ম্যাচের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে নিয়ে হোমওয়ার্কটা ভালো হয়েছে জানিয়ে ব্র্যাডবার্ন বলেন, ‘আমরা আমাদের হোমওয়ার্কটা খুব ভালোভাবে করেছি প্রতিপক্ষ ও ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে। আমরা ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি। এই আসরে দশটিই ভালো দল। তাই যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারাতে আমাদের ভালো খেলতে হবে এবং সেটা তিন ইউনিটেই (ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং)। বাংলাদেশকে আমরা যথেষ্ট সমীহ করি। ভালো খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়ে উঠেছে দলটি। তাদের শক্তির জায়গাগুলো আমাদের যেমন জানা, দুর্বলতাওগুলোও জানার চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে আমরা আমাদের ভালো খেলা নিয়েই বেশি ভাবছি।’

চারে থাকা অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে চার পয়েন্টের ব্যবধান পাকিস্তানের; অর্থাৎ শেষ তিন ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে তাদের শেষ চারে যাওয়া। কাজটা কঠিন, তবে একেবারেই অসম্ভব নয়।