বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচীর দ্বিতীয় দিনেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। একইসাথে কমলাপুরের উদ্দেশে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন ও ঠিক সময়ে পৌঁছাচ্ছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারাদেশে তিন দিনের রেল, সড়ক ও নৌপথ অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। অবরোধের কারণে দেশের অধিকাংশ সড়কে দূর পাল্লার বাস চলাচল সীমিত রয়েছে। যাত্রী না থাকা ও নিরাপত্তার শঙ্কায় বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
আজ বুধবার সকাল ৮টায় সরেজমিনে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। টিকেট কাউন্টারেও ভিড় কম লক্ষ্য করা গেছে। তবে সব ট্রেন শিডিউল অনুযায়ী চলছে। এখন পর্যন্ত কোনও শিডিউল বিপর্যয় নেই।
কমলাপুর রেলস্টেশনে কথা হয় রংপুর মতিহার মিয়ার সঙ্গে। রংপুর এক্সপ্রেসে করে পরিবার নিয়ে রংপুরে যাবেন তিনি। দেশ রূপান্তরকে মতিহার মিয়া বলেন, আগামীকাল আমার ভাতিজির বিয়ে। অফিসে ছুটি পাইনি, তাই আজ যেতে হচ্ছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ট্রেনে যাচ্ছি, তবে আজ ভিড় অনেক কম। ফলে সকালেই পরিবারের জন্য ৩টি টিকিট অনলাইন থেকে কাটতে পেরেছি।
তিনি বলেন, রাস্তায় গণপরিবহন নেই। এ সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। মিরপুর থেকে একটা সিএনজি নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে আসতে আমার গুনতে হয়েছে ৬০০ টাকা। এর নীচে কেউ আসতে চায় না। ড্রাইভাররা বলছে, গাড়ী পুড়ানোর রিস্ক নিয়ে চালাতে হচ্ছে। তাই বাড়তি ভাড়া দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
একই স্টেশনে কথা হয় স্কুল শিক্ষক সজল মিয়ার সাথে। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ, একটা জরুরী কাজে যাবেন জামালপুর। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুন্সিগঞ্জ থেকে সরাসরি ঢাকার বাস চলাচল বন্ধ। তাই আমাকে ভেঙ্গে ভেঙ্গে ঢাকায় আসতে হয়েছে। আবার দূর পাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বাসেও জামালপুর যেতে পারছি না। ফলে ট্রেনই ভরসা।
কক্সবাজার ঘুরতে গিয়েছিলেন বগুড়ার ছেলে রবিন। গতকাল রাতে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে করে ঢাকা ফিরেছেন। তিনি বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকা কিংবা বগুড়ার কোন বাস পাইনি। এরপর অনেক কষ্টে গতকাল চট্টগ্রামে পৌঁছে ট্রেন ধরি। এখন আবার রংপুর এক্সপ্রেসে করে বগুড়া যাওয়ার অপেক্ষায় আছি।
এদিকে স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টা ৪৫ থেকে ১০টা ৪৫ পর্যন্ত রংপুর এক্সপ্রেস, জামালপুর এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, কর্ণফুলী কমিউটারসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন রয়েছে।
চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা কর্ণফুলী ট্রেনের পরিচালক ওমর আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, লোকাল ট্রেন হওয়ার পরেও আজ যাত্রী অনেক কম। অন্যান্য দিন একেকটি বগিতে এরচেয়ে বেশী যাত্রী থাকেন।
এদিকে অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ ট্রেনের যাত্রীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। যাত্রীরা জানান, রাস্তায় বাস চলাচল না করা ও গত কয়েকদিন বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন দেওয়ার ফলে একান্ত প্রয়োজন না হলে দূরবর্তী যাত্রা বাতিল করছেন তারা।
তবে তিন দিনের অবরোধে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অবরোধ চলাকালীন সময়ে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য এ বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেলের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মাসুদ সারোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া প্রতিটি স্টেশনে পুলিশের টহল টিমসহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা হবে।