ফেনীতে বিএনপি জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ফেনীর সদর থানায় নতুন করে আরও তিনটি মামলা করা হয়েছে। এ তিনটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় বাদি হয়েছে পুলিশ এবং একটি মামলার বাদি হয়েছেন একজন আওয়ামী লীগের কর্মী।
ফেনী থানা সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে ফেনী সদর মডেল থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান বাদি হয়ে বিএনপির ৩১ জন নেতা–কর্মীকে আসামি করে একটি মামলা করেন।
উপপরিদর্শক (এসআই) কোমল কুমার সাহা বাদি হয়ে ১০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা করেছেন। তৃতীয় মামলাটির বাদি শহরের পূর্ব উকিলপড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ। ওই মামলায় ৩৫ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়।
এ নিয়ে গত চার দিনে জেলায় বিএনপি–জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা করা হলো। এসব মামলার মধ্যে শুধু ফেনী সদর মডেল থানায় ৭টি মামলা এবং অপর পাঁচটি সোনাগাজী, পরশুরাম, ছাগলনাইয়া, দাগনভূঞা, ফুলগাজী থানায় একটি করে মামলা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সন্ধা পর্যন্ত আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে চার দিনে ৭৮ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ফেনী সদর মডেল থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে, পরশুরাম থানা-পুলিশ ২ জনকে, ফুলগাজী থানা ২ জনকে, ছাগলনাইয়া থানা ২ জন এবং সোনাগাজী ও দাগনভূঞা থানা ১ জন করে মোট ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার জাকির হাসান জানায়, বিএনপির টানা তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি সামনে রেখে বিএনপি-জামায়াতে নেতা-কর্মীরা নানা ধরনের নাশকতা ও জনগণের জানমালের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিলেন। জনগণের জানমাল রক্ষার স্বার্থেই দায়িত্ব পালন করেছে পুলিশ।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার ও সদস্যসচিব আলাল উদ্দিন এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে গায়েবি মামলা বলে দাবি করেন।