চম্পাকলিতে বই পড়ে সময় কাটছে ফখরুলের

কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারের চম্পাকলি সেলে বন্দি আছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চারতলা ভবনের দোতলার একটি কক্ষে বই-পত্রিকা পড়ে সময় কাটছে তার। কারা কর্র্তৃপক্ষের দাবি, তার শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকায় এখনো স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়নি। কারাগারে যাওয়ার পর কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তবে তার ব্যক্তিগত খরচের জন্য প্রিজনার্স ক্যাশে (পিসি) কিছু টাকা জমা দিয়েছে। গতকাল বুধবার কারাগার থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে। কারাগার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলামকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। কারাগারে নেওয়ার পর তাকে কারা হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রাখা হয়। ওই সময় তার সেবা করার জন্য একজন কয়েদিকে সেবক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে সোমবার দুপুরে আদালত থেকে মির্জা ফখরুলকে কারাগারে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দির মর্যাদা-সংক্রান্ত আদেশ পৌঁছায়। ওই আদেশ পেয়ে কারা কর্র্তৃপক্ষ মির্জা ফখরুলকে কারা হাসপাতাল থেকে ডিভিশন সেলে চম্পাকলি ভবনে স্থানান্তর করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কারারক্ষী দেশ রূপান্তরকে বলেন, চম্পাকলি ভবনে ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের রাখা হয়। চারতলাবিশিষ্ট ভবনটির প্রতিতলায় চারটি করে কক্ষ রয়েছে। মির্জা ফখরুলকে দোতলার একটি রুমে রাখা হয়েছে। ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দি হওয়ায় তাকে একজন সেবক ও একটি দৈনিক পত্রিকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি চাইলে টিভি দেখার সুযোগ পাবেন, তবে টিভি ব্যক্তিগতভাবে সংগ্রহ করতে হবে। তিনি এখনো টিভি আনেননি। কারাগার থেকে তাকে যে দৈনিক পত্রিকা দেওয়া হচ্ছে, সেটিই পড়েন। এ ছাড়া কারাগারের লাইব্রেরি থেকে বই এনে পড়ছেন।

জেল কোডে সরকারের একটি খাদ্যতালিকা রয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী বন্দিদের খাবার সরবরাহ করা হয়। জেল কোডে সকালের খাবারের তালিকায় রয়েছে, রুটি, পাউরুটি, ডিম, সবজি ও চা। দুপুরের খাবারের তালিকায় রয়েছে, ভাত কিংবা রুটি, মাছ বা মাংস, শাকসবজি ও ডাল। রাতের খাবার ভাত কিংবা রুটি, মাছ বা মাংস, শাকসবজি ও ডাল। জেল কোড অনুযায়ী, সাধারণ বন্দিদের সকালের নাশতার জন্য ১০-১২ টাকা আর দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ৫৩-৫৮ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ ছাড়া ভিআইপি বা ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দিদের সকালের নাশতার জন্য ৪০, দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য ৯৬ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এই টাকার মধ্যে কারা কর্র্তৃপক্ষ বন্দিদের মাঝে খাবার সরবরাহ করে থাকে। এই খাবাবের বাইরে চাইলে পিসির টাকায় পছন্দসই খাবার ক্রয় করে খেতে পারবেন।

কারাগারের ভেতরে মির্জা ফখরুলের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়নি। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব ওষুধ সেবন করতেন, তা করছেন। এসব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে নেওয়া হচ্ছে, আবার কারাগার থেকেও দেওয়া হচ্ছে।

কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনি কারাগারে আসার পর হাসপাতালে ছিলেন। তার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়নি। তিনি চাইলে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হবে। তবে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যেসব ওষুধ সেবন করতেন তা করছেন।

বিএনপি মহাসচিবের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উনি অসুস্থ। কারাগারে তাকে ওষুধ পাঠানো হয়েছে। অবরোধ চলমান থাকায় তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া সম্ভব হয়নি। আগামীকাল শুক্রবার সাক্ষাৎ করার জন্য যাব।’

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষের মধ্যে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলার ঘটনায় রমনা মডেল থানায় করা মামলায় গত রবিবার মির্জা ফখরুলকে তার গুলশানের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সারা দিন তাকে রাখা হয় ডিবি কার্যালয়ে। সেখান থেকে রাতেই ঢাকার মহানগর হাকিম শফি উদ্দিনের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত বিএনপি মহাসচিবের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। এরপর রাতে তাকে কারাগারে নেওয়া হয়।