কখনো মাতৃত্বকালীন ছুটি আবার কখনোবা শ্রমিকদের জরিমানা শ্রম আইনের বিভিন্ন বিষয় সংশোধন নিয়ে গত পাঁচ বছরই আলোচনায় ছিল সরকার। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও), ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর দেশি শ্রমিক সংগঠনগুলো ছিল এসব বিতর্কের নেপথ্যে। কিন্তু সরকার এসব তর্ক-বিতর্ক ফাইলচাপা দিয়ে রাখে পুরো মেয়াদজুড়েই।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাপা দিয়ে রাখলেই সব চাপা পড়ে না। এক সময় না এক সময় তা আলোতে আনতেই হয়। সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়। অসময়ে শ্রম আইন সংশোধন করতে গিয়েই তালগোল পাকিয়েছেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান। আর এ তালগোলের কড়া মাশুল দিতে হয়েছে তাকে। প্রতিমন্ত্রী হয়েও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে নির্বাচনে লড়ার টিকিট পাননি।
শ্রম আইনে যে ভুল রয়েছে, তা জানান দেওয়া হয়েছে বিশ্বময়। এতে বিব্রত হয়েছে সরকার। একই সঙ্গে এমপিরা আইন প্রণয়নে যে পর্যাপ্ত সময় দেন না দীর্ঘদিনের সেই অভিযোগ যেন প্রমাণ হয়েছে রাষ্ট্রপতি বিল ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
রাষ্ট্রপতি কীভাবে আইনের ভুল ধরলেন। যেখানে মন্ত্রিসভায় ধরা পড়েনি, সংসদ ব্যর্থ হয়েছে, এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির কৌশল কী ছিল? এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা শ্রম খাতে। যারা আইন সংশোধনের খসড়া তৈরির সময় বিভিন্ন ধারার বিরোধিতা করেছেন তারাই এর নেপথ্যের কুশীলব। এসব বিরোধিতাকারীকে ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে, আইনের সংশোধন সংসদে উঠবে না। আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার কোনো একপর্যায়ে গিয়ে তা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতার সঙ্গে এসব বিরোধিতাকারী পেরে ওঠেননি। শেষ অস্ত্র হিসেবে তারা মহামান্যের দরবারে হাজির হন।
সংসদের শেষ অধিবেশনে পাস হওয়া ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল-২০২৩’-এ সম্মতি দেননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হয়নি। পুনর্বিবেচনার জন্য বিলটি গত মাসে সংসদে ফেরত পাঠান রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ১৫ দিনের মধ্যে কোনো বিলে সম্মতি দিলে সেটি আইনে পরিণত হবে। তবে সংসদে পাস হওয়া কোনো বিল পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে তা সংসদে ফেরত পাঠানোর ক্ষমতাও রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া হয়েছে। যদিও রাষ্ট্রপতির এ ক্ষমতা প্রয়োগের নজির দেশে বিরল। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সপ্তম সংসদে পাস হওয়া ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ১৯৯৮’ স্বাক্ষর না করে ফেরত পাঠিয়েছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানকে নিজেদের স্বার্থে ভুল পথে নিয়ে গেছেন তার কিছু স্বজন। আস্থায় থাকা গুটিকয় কর্মকর্তাও দারুণভাবে বিভ্রান্ত করেছেন। তাদের প্ররোচনায় নির্মোহ থেকে শ্রম আইনের সংশোধন করতে পারেননি প্রতিমন্ত্রী। স্বজন ও আস্থায় থাকা কর্মকর্তারা নিজেদের স্বার্থে প্রতিমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছেন। তিনি ভুল বুঝে পুরো সরকারকে ভুল পথে চালিত করেছেন।
প্রতিমন্ত্রীর চেষ্টায় বিল সংসদে ওঠে ও পাস হয়। যেসব বিষয়ে বিতর্ক, আইএলওর আপত্তি ও শ্রমিকদের দাবি ছিল সেসব সমাধান না করে ক্ষমতাসীন দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিলটি পাস হয়ে যায়।
প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ে পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছিলেন। ভাই মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদকে নিজের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) করেছেন। আর এপিএসের মেয়ে শামীমা সুলতানা হৃদয়কে করেছেন গার্মেন্টস মালিকদের কেন্দ্রীয় তহবিলের সহকারী পরিচালক। অভিযোগ রয়েছে, শ্রম খাতে গত পাঁচ বছরে নানা অনিয়মের হোতা এ দুজন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন শ্রম অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান।
হৃদয়ের স্বামী মুহাম্মদ মেহরাব পাটোয়ারী এবং প্রতিমন্ত্রীর আপন ভাগ্নে ইয়াসির আরাফাত পৃথিবীও কেন্দ্রীয় তহবিলের নীতিনির্ধারক পদে চাকরি করেন। তাদের সঙ্গে আছেন মিজানুর রহমানের শ্যালক কেএম আবদুল্লাহ হাবীবও। মন্ত্রীর লোকদের পার করার মাধ্যমে অন্যদের চাকরিও স্থায়ী হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে সর্বনিম্ন সুদ হারে। বিনিময়ে একটা সুবিধা পৌঁছে যায় প্রভাব-বিস্তারকারীদের কাছে।
শ্রম মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় তহবিল হচ্ছে শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য মালিকদের টাকায় গঠিত একটি তহবিল। বর্তমানে এ তহবিলে রয়েছে ৯৪০ কোটি টাকা। এ তহবিলে হৃদয়ের নিয়োগ স্থায়ী করার জন্য আলোচিত শ্রম আইনে বলা হয়েছে ‘ইতিপূর্বে নিয়োগকৃত এবং কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকিবে।’ এ ধারার মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী ভাতিজির নিয়োগ স্থায়ী করতে চেয়েছেন। আইনের মাধ্যমে এটা করা হয়েছে যেন পরে নতুন কেউ শ্রমমন্ত্রী হয়ে এলেও ভাতিজির চাকরি সুরক্ষিত থাকে। ভাতিজিকে সরিয়ে দিতে হলেও যেন সংসদে আইন পাল্টাতে হয়। ভাতিজিপ্রেমে অন্ধ প্রতিমন্ত্রী এ নজিরবিহীন ঘটনা ঘটানোর সময় কারও বাধা আমলে নেননি। শ্রম সচিব এহছানে এলাহি চেষ্টা করেও খান্ত দেন।
এ ধরনের বিধি সংযোজন করা হয় বিধিমালায় বা চাকরিসংক্রান্ত সার্ভিসবুকে। শ্রম আইনের ২৩২ ধারা সংশোধন করে ভাতিজির চাকরির পথ সুগম করতে গিয়ে প্রশ্নের জালে আটকা পড়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
শুধু ২৩২ ধারাই নয়, সংশোধনের জন্য সংসদে পাস হওয়া বিলটিতে এ ধরনের আরও অন্তত ১২টি ধারা রয়েছে। যেসব ধারা নিয়ে শ্রমিক সংগঠনগুলো এবং আইএলও সোচ্চার। তাদের পাশে রয়েছে ক্রেতা হিসেবে বিশ্ববাজারে দাপুটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। তারা চায় বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠনগুলোর স্বাধীনতা এবং সম্মিলিত দরকষাকষির অধিকারসহ ট্রেড ইউনিয়নগুলোর শ্রম অধিকার পালনের পরিবেশ উন্নত করতে। জিএসপি প্লাসের জন্য বাংলাদেশের আবেদন ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং কমিশনের বিবেচনায় রয়েছে। আর তা অনুমোদনের জন্য তাদের কাছে আন্তর্জাতিক মানের শ্রম আইন অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত শ্রম আইনের সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে ২৯১ ধারা সংশোধন। এ ধারাটি শ্রমিকের অন্যায্য ধর্মঘট-সংক্রান্ত। শ্রমিকরা এ ধরনের ধর্মঘট করলে তাদের ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই জরিমানা বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয় সংশোধনীতে। ২৯৪ ধারাটি মালিকদের অবৈধভাবে কারখানা লে-অফ সংক্রান্ত। অবৈধ লে-অফ করলে ৫ হাজারের জরিমানা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়। কিন্তু জরিমানার এ হার ২৯১ ধারা অর্থাৎ শ্রমিকের ধর্মঘটের জন্য প্রযোজ্য বলে সংসদে অনুমোদিত বিলে বলা হয়। এ ভুলের জন্য শ্রমিকদের জরিমানা ৫ হাজার থেকে চারগুণ বেড়ে যাবে। আবার মালিকদের জরিমানা যে ৫ হাজার ছিল, সেখানেই রয়ে যাবে। এতে ক্রেতা ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর কাছে ভুল বার্তা যাবে বলে মনে করেন শ্রম আইন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরকে অধিদপ্তর করা হয়। কলকারখানার পরিদর্শনকে নিয়মিত ও জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রচন্ড চাপ ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আইএলওর। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের কলকারখানায় নিয়মিত পরিদর্শন না হওয়াকে এর জন্য দায়ী করা হয়। এসব চাপের মধ্যে পড়ে সরকার কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদপ্তরকে অধিদপ্তর করে। রাতারাতি জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য বিধিমালা সংশোধন করা হয়। এসব কাজ দ্রুত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নিজে তদারকি করেছেন।
যে পরিদর্শনকে এত গুরুত্ব দিয়ে পরিদপ্তরকে অধিদপ্তর করা হলো, সেই অধিদপ্তরের কাজ সংসদে সংশোধিত আইনে তা ভাগাভাগি করে দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। শ্রম আইনের ৩১৭ ধারা হচ্ছে শ্রম অধিদপ্তর সংক্রান্ত। সংসদে অনুমোদিত বিলে সেই ৩১৭ ধারায় নতুন উপধারা যোগ করে কলকারখানার পরিদর্শনের কাজ কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডাইফ) পাশাপাশি শ্রম অধিদপ্তরের (ডল) ওপরও ন্যস্ত করা হয়।
২০১৯ সাল থেকেই এ ধরনের একটি ধারা সংযোজনের চেষ্টা করে আসছিলেন প্রতিমন্ত্রীর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মিজানুর রহমান। কিন্তু এর বিরোধিতা করে আসছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সবাই। এ নিয়ে দুই দপ্তরের রেষারেষি প্রকাশ্যই। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনগুলোও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কাছেই এ দায়িত্ব রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীদের প্ররোচনায় প্রতিমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রাখতে পারেননি।
আইএলওর কনভেনশন অনুযায়ী, শ্রমিকদের কাজের শর্ত ও সুরক্ষা দিতে হয়। বর্তমান শ্রম আইনের ১২৪ (ক) অনুযায়ী এ কাজটি ডাইফের মহাপরিদর্শক করেন। কিন্তু ২০২৩ সালের সংশোধনে এই ১২৪ক ধারাটি ডাইফ থেকে সরিয়ে শ্রম অধিদপ্তরকে দেওয়ার বিধান করা হয়েছে।
আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নভিত্তিক কারখানা শ্রম অধিদপ্তরের আওতাধীন। সংসদে অনুমোদিত খসড়া বিলের প্রস্তাব অনুসারে ট্রেড ইউনিয়ন নেই, এমন কারখানার শ্রমিকরা ১২৪ক ধারার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।
এতে আইনি শূন্যতা সৃষ্টি হতে পারে। আইএলও নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিমালাবহির্ভূত আইনের কোনো অংশ পরিবর্তন করা হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শ্রম পরিদর্শন ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংশোধিত আইনে দুর্ঘটনাকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যা নিয়ে আপত্তি রয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলোর। দুর্ঘটনা ছাড়াও কৃষি শ্রমিক, কৃষি বাগান এ ধরনের অনেক নতুন সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যা আইন প্রয়োগে জটিলতার সৃষ্টি করবে বলে শ্রমসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিনের পরিবর্তে ১২০ দিন করা হয়েছে। তবে এতে নারীর ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। বর্তমান আইনে সন্তান প্রসবের ৮ সপ্তাহ বা ৬০ দিন আগে কাজ থেকে বিরত থাকার সুযোগ পান। কিন্তু সংসদে পাস হওয়ায় বিলে সেটা ২১ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ডেস্কওয়ার্ক করা নারীদের সুবিধা মনে হলেও শিল্প শ্রমিকের পক্ষে এ বিধান খুব ঝুঁকিপূর্ণ হবে। বিশেষত তৈরি পোশাকের শ্রমিকদের ক্ষেত্রে। যদি কর্মক্ষেত্রে কোনো নারী সন্তান প্রসব করে আর তার মৃত্যু ঘটে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কারখানায় তুলকালাম কা- ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে। তবে যেসব নারী ডেস্কজবের মতো নিরাপদ কাজ করেন, তাদের জন্য প্রসব-পরবর্তী দীর্ঘ ছুটি সুবিধা দেবে।
প্রভিডেন্ট ফান্ডসহ শ্রমিকের বিভিন্ন পাওনায় হিজড়া সম্প্রদায়কে উত্তরাধিকার করা হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। ৩৪৮ ধারায় শ্রমিকের প্রশিক্ষণ শ্রম অধিদপ্তরের হাতে নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও আইএলওর আপত্তি ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে। শ্রমিকদের ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা এবং ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২০ শতাংশ শ্রমিকের সম্মতি থাকা বাধ্যতামূলক করার বিষয়েও আপত্তি রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। এসব সমস্যা সমাধান না করে শ্রম আইন সংশোধন করার জন্য সংসদে পাস করা হয়েছে।
আইনে কী আছে তার দায়িত্ব এমপিদের দাবি মিজানুরের : এক প্রশ্নের জবাবে গতকাল সোমবার রাতে শ্রম অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক মিজানুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি আইন সংশোধনের খসড়া প্রণয়ন কমিটির নিচের দিকের সদস্য ছিলাম। দীর্ঘ প্রক্রিয়া রয়েছে। কেবিনেট, ভেটিং, স্থায়ী কমিটি হয়ে সংসদে যায়। এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই। আমি নিচের লেভেলে কাজ করেছি। আইন সংশোধনে প্রতিমন্ত্রী বা সচিব কোনো বিষয় না। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় কাজ হয়। বিষয়টি নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের আইন বিভাগে কথা বলুন। আর ডাইফের কাজ ডলের কাছে নিয়ে আসার কোনো বিষয় আমার জানা নেই। কেন্দ্রীয় তহবিলে আমার শ্যালক চাকরি করলেও এর সঙ্গে আইন প্রণয়নের কোনো সম্পর্ক নেই। আইনে কী আছে তা দেখার দায়িত্ব এমপিদের, আমার নয়।’
যত বিতর্ক মন্নুজানকে ঘিরে : গত পাঁচ বছরে শ্রম মন্ত্রণালয় নিয়মের বাইরে গিয়ে কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব দেয়। শ্রম অধিদপ্তর এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পদোন্নতিতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসিআর কেলেঙ্কারির ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি হলেও সেসব কমিটির সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া শ্রম মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর-অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ওপর আস্থাহীনতাও দেখা গেছে। গত ছয় মাস ধরে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের পদ শূন্য থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।